নগর সংস্কৃতি

চারুকলায় জয়নুল মেলা শুরু

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ০২:১৩

জনমানুষের হাসি কান্নার যাপিত জীবন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে প্রতিনিয়ত আন্দোলিত করতো। আর তাই তার চিন্তনের বাস্তব প্রতিফল ঘটানো হয়েছে ‘জয়নুল মেলায়’। চারুকলা অনুষদের ৭টি বিভাগের ৭টি স্টল এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, রাজশাহী অঞ্চলের শিল্পীদের তৈরি শিল্পকর্ম দেশের শিল্পযাত্রার পথপরিক্রমার নানা সময়ের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে অবিভক্ত বাংলায় ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে চারুকলা অনুষদের বর্তমান কর্ম পরিকল্পনা ও তার ভবিষ্যত্ সম্ভাবনার কথা। গ্রাফিকস, ভাস্কর্য, অংকন এবং রকমারি কারুকাজে সমৃদ্ধ এ মেলায় স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাচ্ছে নান্দনিক শিল্পকর্ম। যা শিল্পপ্রিয় মানুষকে শিল্পকর্ম কেনায় আরও বেশি করে উত্সাহিত করবে। জয়নুল শতবর্ষে চারুকলা অনুষদ আয়োজিত চারদিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন হয় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায়।

উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, চারুকলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক নিসার হোসেন, সাবেক ডীন অধ্যাপক আবুল বারক আলভী, জয়নুল আবেদিন পুত্র খায়রুল আবেদিনসহ চারুকলা অনুষেদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধকের বক্তব্যে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জয়নুল আবেদিন শুধু একজন চিত্রকরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না শিল্পের প্রসারের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ছিলেন  জ্ঞানের আচার্য, শিল্পের আচার্য, দর্শনের আচার্য। তিনি বলেন, জয়নুল আবেদিন নিজেকে এমন একটি অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যেখানে তিনি বাঙালি সমাজে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
এসময় জযনুল আবেদিনের পুত্র খায়রুল আবেদিন এরকম একটি সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘জয়নুল আবেদিন  যেমন আমাদের পরিবারের তার চেয়ে বেশি দেশবাসীর আর সেটিও প্রমাণিত হচ্ছে বাবার শতবর্ষে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে।
এর আগে রবীন্দ্রনাথের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ গানের মধ্যদিয়ে উদ্বোধনী আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা শেষে চলে ঢাক-ঢোলের মধুর আওয়াজ।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থেকে মেলা চলবে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিকেলে চারুকলার বকুলতলায় চলবে স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী দিনে সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করবে জলের গান।