সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরের ড্রইং, স্কেচ ও জল রঙে আঁকা ছবি নিয়ে শিল্পী বীরেন সোমের একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গ্যালারি ‘শিল্পাঙ্গন’ এ। প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘স্মৃতির অভিসার’। প্রদর্শনীর শিরোনাম যেন শিল্পীর জীবন থেকেই নেয়া। সেই ছাত্র অবস্থায় স্টাডি ট্যুরে বীরেন সোম প্রথম গিয়েছিলেন পানাম নগর। প্রথমবার গিয়ে এই নগরের সেই যে প্রেমে পড়েছেন তা সারাজীবনে আর কাটেনি। জীবন সায়াহ্নে এসে শিল্পী যেন তার স্মৃতিকাতরতাকে পুনর্জন্ম দিচ্ছেন এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। তবে এই স্মৃতি অভিসারের মধ্যে যুক্ত হয়েছে শিল্পীর নিবিড়তা যা গত কয়েক দশক ধরে শিল্পরসিকরা উপভোগ করে আসছেন।
বীরেন সোম বললেন, এর আগে তো অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু গত দুইটি বছর আমি শুধু পানা নগর নিয়েই ছিলাম। এ নগরের ইতিহাস পড়েছি। ছবি দেখেছি। গবেষণা-প্রবন্ধ পড়েছি। পানাম নগরে দিনের পর দিন ঘুরেছি। এমনই করেই পুরানো সখ্যতা যেন ফিরে এসেছে নতুন করে। ক্যানভাসেও তার প্রতিফলন। পানাম নগরের ক্ষয়িষ্ণু ইমারত, প্রাচীন অবকাঠামো, ভাঙা শার্সিও ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে ফ্লোরাল কাঠের কারুকাজ, ওরিয়েন্টাল ফর্মে ইমারতে গায়ে নকশা আাঁকা। মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রাচীন হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার কথা। ড্র্ইং ও স্কেচ অবলম্বনে সেইসব প্রাচীন ভবন, পথ, নাচঘর, কাচের শার্সি উঠে আসে বাস্তব রূপ নিয়ে, কল্পনাকে উসকে দেয়।
কিন্তু ড্রইং নির্ভর কেন এ প্রদর্শনী? গত বছরের শেষ একক প্রদর্শনী ছিল বিমূর্ত ধারার ছবি নিয়ে? উত্তরে শিল্পী বলেন, ড্রইং হচ্ছে বেসিক। মাস্টার পেইন্টার পিকাসো সারাজীবনই কাজ করেছেন ড্রইংকে প্রাধান্য দিয়ে। আমি সবসময় নিজেকে ভাঙতে চেয়েছি। তাছাড়া পানাম নগর নিয়ে একটা আকর্ষন তো সবসময় কাজ করে আমার ভেতরে।
গতকাল শনিবার বিকালে ধানমন্ডির ৩০ নম্বর সড়কে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কবি, স্থপতি রবিউল হুসাইন। উদেআবধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী বীরেন সোম।
প্রদর্শনীতে ৪৬টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েঠে। চলবে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে গ্যালারি।
জন্মদিনে বিটিভির সম্মাননা পেলেন সৈয়দ হক ও রাবেয়া খাতুন
দেশবরেণ্য দুই সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক ও রাবেয়া খাতুনের ৮০তম জন্মদিন ছিল শনিবার। এই উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও রাজধানীর দি ওয়েস্টিন হোটেলে আলাদা দু’টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও বরেণ্য এই দুই লেখককে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে তাদের নিজ নিজ বাসভবনে প্রতি বছরের মতো ফুল হাতে শুভাশিষ জানাতে উপস্টি’ত হয়েছিলেন বন্ধু-শুভার্থী, ভক্ত-পাঠক-গুণগ্রাহী। পথ চলার ৫০ বছর অতিক্রম করে ৫১ এ পা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। সরকারি এই স¤ক্স্রচার মাধ্যমটির সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিটিভির প্রাঙ্গণে চলছে সাতদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। শনিবার ছিল অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন। এদিনের অনুষ্ঠানমালার একটা বিরাট অংশ জুড়ে ছিলো এই দুই লেখককে ঘিরে বর্ণাঢ্য আয়োজন।
উৎসব মঞ্চে বিকেলের আয়োজনে ৮০তম জন্মদিনের সম্মাননা জানানো হয় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক ও কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুনকে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলমান অনুষ্ঠানে আশিতম জন্মদিন উপলক্ষে সংবর্ধনা জানানো হয় সৈয়দ শামসুল হক ও রাবেয়া খাতুনকে। এ পর্বের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ ও নাট্যজন আতাউর রহমনান। সভাপতিত্ব করেন উপমহাদেশখ্যাত বাঙালি বিবেকের অন্যতম কণ্ঠস্বর ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিটিভির মহাপরিচালক আবদুল মান্নান।
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শিল্প নিয়ে আলোচনা
গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে “টুয়ার্ডস হরাইজনঃ রিপ্রেসেন্টিং ল্যান্ডস্কেপ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন গুনী সঙ্গীত সমালোচক আলিমুর রহমান খান, বিখ্যাত স্থপতি রফিক আজম এবং স্থপতি,শিল্পী নাসিমা খান। কেন প্রাকৃতিক দৃশ্য, বিশেষত বাংলাদেশের ব-দ্বীপের প্রাকৃতিক দৃশ্য শিল্পীদের কাছে সবসময়ই এতো আকর্ষণীয়? এ বিষয়টি কেন বারবার উপস্থাপিত হয় মিল্পীদেও ক্যানভাসে? প্রাকৃতিক দৃশ্য কি কোন আধ্যাত্মিক মাত্রা যোগ করে? – এইসব চিত্তাকর্ষক প্রশ্নের উত্তর এর সন্ধানে আলোচনা করেছেন বক্তারা।
