পাঁচদিনের পর্যবেক্ষণশেষে সুন্দরবন ছেড়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল। শনিবার দুপুরে তারা ঢাকার উদ্দেশে মংলা ত্যাগ করেছেন। গত ২২ ডিসেম্বর বিকালে দলটি মংলায় পৌঁছায়। এরপর সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেলের বিস্তৃতি ও রোধ প্রক্রিয়া, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, প্রাণিজ ও জলজ উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমের ওপর কি প্রভাব পড়েছে কিংবা পড়তে পারে সেইসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চালায় জাতিসংঘের দেশি-বিদেশি ২৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। ৬টি দলে বিভক্ত হয়ে তারা কাজ করেছেন বনের বিভিন্ন এলাকায়।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল মংলা ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের কাছে পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের সাথে থাকা ইউএনবিপি বাংলাদেশের প্রেস অফিসার কাওসার আহমেদ শুক্রবার জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরবনে শেলা নদীসহ আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হরিণসহ বন্যপ্রাণী, কুমিরসহ জলজ প্রাণী ও ডলফিনের দেখা পেয়েছে। পর্যবেক্ষণ দলটি এসব বন্য ও জলজ প্রাণীর ছবি ধারণ করেছে। তারা সুন্দরবনের সকল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনজ ও জলজ প্রাণীসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করেছেন। তিনি জানান, সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেলের বিস্তৃতি ও রোধ প্রক্রিয়া, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, প্রাণিজ ও জলজ উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও মানুষের জীবিন-জীবিকাসহ ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমের ওপর কি প্রভাব পড়েছে কিংবা পড়তে পারে সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দল। বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরবেন এবং ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান এমেলিয়া ওয়ালস্টর্ম।
সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, শনিবার সকালে ২৫ সদস্যের এ দলটি বন বিভাগের সংগৃহীত তৈলাক্ত ঘাস, লতাপাতা, কচুরিপানার ডাম্পিং পয়েন্ট ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। বন সংলগ্ন এলাকায় ডাম্পিং প্রক্রিয়া যথাযথ হয়নি বলেও অভিমত তাদের। পর্যবেক্ষক দলের পরামর্শ অনুযায়ী, তাদের সংগৃহীত ‘ডাস্ট’ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এজন্য বনের অদূরে ডাম্পিং পয়েন্ট খোঁজা হচ্ছে। এ ছাড়া গত কয়েকদিন ধরে বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বড় বড় গর্ত খুঁড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা ‘ডাস্ট’ পুনরায় স্থানান্তর এবং তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলার তাগিদ দিয়েছে পর্যবেক্ষণ দল। তাদের এ মতামতের ওপর ভিত্তি করেই বন বিভাগ সবধরনের ‘ডাস্ট’ পুনরায় উত্তোলন ও সংগ্রহ করে ফের ডাম্পিং প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শেলা নদীতে ট্যাংকার ডুবে যাওয়ার পর ১৫ ডিসেম্বর সরকার জাতিসংঘের সহায়তা চাইলে ২২ ডিসেম্বর এই বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরবনে আসে।
