একদিন আগে ক্রাইস্টচার্চ থেকে হ্যামিলটনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। আগামীকাল ভোরে এখানে শুরু হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। তার আগে গতকাল দিনটা ছুটি কাটালেন ক্রিকেটাররা। এই ছুটির মধ্যেও কয়েকজনের সাথে জিমে ছুটেছিলেন এবাদত হোসেন।
এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এই চমক ফাস্ট বোলার আবার টেস্ট দলের অংশ হিসেবে গেছেন নিউজিল্যান্ডে। এই দফাতেও তার অভিষেক হবে কি না, সেটা বলা কঠিন। তবে এবাদত বলছেন, তার স্বপ্নই টেস্ট ক্রিকেট। আর সাদা পোশাকের এই ক্রিকেট খেলতে তিনি পুরো প্রস্তুত।
২০১৬ সালেও দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে ছিলেন। আরো একবার সেই নিউজিল্যান্ডে দলের সাথে আসতে পেরে খুশি এবাদত বলছিলেন, ‘আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাকে অনেক ভালো একটা অপরচুনিটি দিয়েছেন। এরপর আমি বিসিবি ও ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, ওনারা আমাকে দ্বিতীয়বার নিউজিল্যান্ডে নিয়ে এসেছেন। নির্বাচকরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমরা এখানে টেস্টের বেশ কিছুদিন আগে আসলাম। এখানে আগে আসার যে কারণটা ছিলো, এখানকার উইকেট আর কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া। এটা খুব ভালো হয়েছে। গত কয়েকদিন যে অনুশীলন করেছি, সেটা খুব কাজে দেবে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে যখন এসেছিলাম, তখন এখানে মানিয়ে নেওয়াটা আমার জন্য কঠিন হয়েছিলো।’
গতবার যখন এখানে এসেছিলেন, তারপর থেকে এবাদতের অনেক উন্নতি হয়েছে বলে খোদ বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশই বলেছেন বলে বলছিলেন এই ফাস্ট বোলার, ‘কিছুদিন এখানে কোর্টনি ওয়ালশ ও বাকি যারা আছেন, সবার সাথে কাজ করেছি। ওয়ালশ আমাকে বলছিলেন যে, আগেরবার আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তারপর থেকে আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। সর্বশেষ ক্রাইস্টচার্চে যে ছয়-সাতদিন অনুশীলন করলাম, ওখানে খুব বাতাস ছিলো, ঠান্ডা ছিলো। এর সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি। আমাদের যে দুইদিনের ম্যাচটা ছিলো, ওটা আমাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে।’
এবাদত বলছিলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি নিজেকে একজন টেস্ট বোলার হিসেবেই গড়ে তুলেছেন, ‘গত এক দেড় বছর আমি চম্পকার (রমানায়েকে) সাথে কাজ করেছি। আমি আসলে এই সময় আমার অ্যাকুরেসি নিয়ে কাজ করেছি। উনি আমাকে একটা কথা বলেছেন, তুমি যেহেতু লম্বা সময় বল করতে পারো, টেস্টে তুমি ভালো করবে। যে জন্য আমি লাল বলটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। এখন আমি লাইন-লেন্থ নিয়ে কাজ করছি। সেটা অনেক ভালো হয়েছে বলে মনে হয়।’
টেস্ট খেলার এতো আগ্রহের কারণটাও পরিষ্কার করলেন এই তরুণ ফাস্ট বোলার, ‘আমার কাছে মনে হয়, একজন যদি ভালো টেস্ট খেলোয়াড় হতে পারে, সব খেলাই তখন তার কাছে সহজ হয়। তাই আমি চাই একজন ভালো টেস্ট ক্রিকেটার হতে। এখন যদি সুযোগ পাই, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’
এবার নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং বেশ অনভিজ্ঞ। এবাদত বলছেন, এই তরুণদের সাথে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন মুস্তাফিজ, ‘আগে যখন আসছিলাম, তখন রাব্বি ভাই ছিলো, তাসকিন ছিলো। এবার আমি, রাহি, খালেদ আছি এবং মুস্তাফিজ আছে। মুস্তাফিজ কিন্তু টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি অনেক খেলেছে। আমি আর খালেদ আজকে ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম যে, কী লেন্থে বল করলে কাজে দেবে। ও বললো, এসব উইকেটে সামনে বল করা এবং ধারাবাহিক বল করা যায়। ওর কাছ থেকে খুব হেল্প পাচ্ছি।’
