প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের আজ পঞ্চাশতম ম্যাচে মোহামেডান আবাহনী মুখোমুখি হচ্ছে। যদিও লিগের প্রথম পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের লড়াই হয়ে গেছে নীলফামারীর মাঠে। তারপরও নামের ভারে দেশের খ্যাতনামা দুই সংগঠন মোহামেডান আবাহনীর লড়াই ভিন্নতা আনে। আলাদা অনুভূতি জাগায়। ফুটবলময় শিহরণ না হলেও মাঠে কিকঅফ হলে শিহরিত হয় দর্শক। নামে ও জার্সির ভারে বাড়তি মর্যাদার প্রলেপ দেয় ফুটবল অনুরাগীদের হূদয়ে।
এই দুই দলে সেই অর্থে তারকা ফুটবলার নেই। নামের টানে দর্শক ছুটবে সেই আকর্ষণ নেই। কারণ পায়ের কাজ নেই, ফুটবল শৈলী দেখার মতো মন্ত্র নেই এখনকার খেলোয়াড়দের। কাজী সালাহউদ্দিন, এনায়েত, সান্টু, টুটুল, মহসিন, আশীষ ভদ্র, আসলাম, সালাম, বাদল, ওয়াসিম, সাব্বির, মোনেম মুন্না, কায়সার হামিদদের মতো মেধাবী ফুটবলার নেই। এমন কি পরবর্তী সময়ের নকীব, জুয়েল রানা, আলফাজ, আরমান মিয়া, বিপ্লব, আমিনুল, হাসান আল মামুনদের মতো ফুটবলারও আসেনি। যা দেখে স্বপ্নময় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভিড় করবে আসবে। অথচ এই স্টেডিয়ামই একটা সময় দর্শক হূদয়ে স্বপ্নপুরী হিসেবেই আদর পেতো, যখন সন্ধ্যা ৭টার খেলায় দর্শক স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য বেলা ১১টায় লাইনে দাঁড়াতো। ছুটির আগেই অফিস পাড়া ছুটত মাঠে। ঢাকার বাইরে থেকেও দর্শক এসে ভিড় করত। লোকে লোকারণ্য স্টেডিয়ামে দুর্ঘটনা ঘটবে, সংঘর্ষ হবে, উত্তেজিত দর্শক জ্বালাবে পোড়াবে এমন আশংকায় পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সরব উপস্থিতি ছিল। উল্লাসে গ্যালারিতে সিরিজ ফটকা ফুটত। খেলা শুরু হওয়ার আগেও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়াতেও দেখা যেতো মাঠে। সুখের স্মৃতিতে ভরপুর দিনগুলো এখনকার ফুটবলে কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে উঠেছে। অথচ দুই সংগঠনে দেশের খ্যাতনামা এবং বিত্তবান ব্যক্তিরা আছেন অভিভাবকের আসনে। নামের ভারে দুই দল শক্তিশালী হলেও মাঠের লড়াইয়ে সেই চাকচিক্য নেই। এতো কিছুর পরও এখন মোহামেডানের তুলনায় এই মুহূর্তে আবাহনী অনেক শক্তিশালী।
আবাহনী এরই মধ্যে পেশাদার ফুটবলে ৬ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মোহামেডানের ঘর শূন্য। লিগের ১১তম আসর চলছে। বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী এবারও শিরোপা লড়াইয়ে রয়েছে। নেই মোহামেডান।
মোহামেডান নিজেদের প্রথম ম্যাচটা জিতেছিল বিজেএমসির বিপক্ষে। এরপর টানা চার খেলায় হেরেছে। ড্র পেয়েছে দুটি। টানা হারের পর ড্রয়ে খেলোয়াড়, ম্যানেজার দারুণ খুশি। ব্রিটিশ কোচ বিদায়ের পর দেশি কোচ আলী আজগর নাসিরকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনিও একদিন ভোরে ক্লাব ছেড়ে বাড়ি চলে যান। নানা অভিযোগ করে গেছেন। স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার ব্যর্থতার কথা জানিয়েছেন সবাইকে। নাসির জানিয়ে গেছেন একাদশ মাঠে নামানো, খেলোয়াড় পরিবর্তন করাসহ কোনো কাজেই কোচের মূল্যায়ন নেই বলে চলে গেছেন।
ফুটবলে ডুবন্ত মোহামেডানের হাল ধরেছেন সহকারী কোচ শহিদুল ইসলাম জুয়েল। অখ্যাত এই কোচ আবাহনীকে হারিয়ে আজ বিখ্যাত হওয়ার সুযোগ নিতে পারেন। তার কণ্ঠে জোর আছে। জুয়েল বললেন, ‘আমরা জেতার জন্য খেলব। এটা অসম্ভবের কিছু না। কারণ ভালো একটা দিন গেলে জিততেও পারি। আমাদের পয়েন্ট নেই। আমরা পজিটিভ ফুটবল খেলব।’ ভঙ্গুর মোহামেডান নিয়ে জুয়েল বললেন, ‘আপনারা যতটা বলছেন, মোহামেডান অতটা বিধ্বস্ত না। এটা ঠিক আবাহনীকে হারানো কষ্ট হবে। কারণ ওরা ব্যালান্সড টিম। মিডফিল্ড এটাকিং সবই ভালো। আমরা ট্যাকটিক্যাল ফুটবল খেলে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব।’
মোহামেডানের দুরাবস্থা জানা আছে আবাহনীর। তারপরও আবাহনী যেন মোহামেডানকে সমীহ করছে। রায়হান, ওয়ালী ফয়সাল, তপু বর্মন, সোহেল রানা, জীবনদের চোখে মোহামেডান আবাহনী মাচটা বারুদের মতোই। জীবনের কথা হচ্ছে অন্যসব ম্যাচের চেয়ে আলাদা। এই ম্যাচে গোল করলে সবাই সেটাকে বেশি সম্মান দেয়। ক্যারিয়ারেও উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখা হয়। দলের সিনিয়র ফুটবলার প্রাণতোষের কথা হচ্ছে খেলার মান যাই হোক মোহামেডান আবাহনীর ম্যাচ সব সময় বাড়তি মর্যাদা পাবে। আবাহনীর চেয়ে মোহামেডানের অবস্থান ৮ ধাপ নিচে। সবল আবাহনী, দুর্বল মোহামেডান, তারপরও ফুটবল মাঠে এই দুই দলের লড়াই উপভোগ্য হবে এমন প্রত্যাশা দর্শকদের।
আজকের খেলা ঃ
শেখ জামাল ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। মোহামেডান ও আবাহনী। ৩টা ৩০ এবং ৬টা ৩০, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
