সারাদেশে নিরুত্তাপ হরতাল আটক ৩২০

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:০৬

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সারাদেশে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। রবিবার রাত ও সোমবার সারাদিনে পুলিশ বিএনপি ও জামায়াতের প্রায় ৩২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এদের মধ্যে কতজনকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আমাদের পাবনা প্রতিনিধি জানান, সেখানে আটক করা হয়েছে ৭৭ জনকে। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, হরতালকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীতে হরতালের সমর্থনে বিএনপির মিছিল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মিছিল মেহেদীবাগ থেকে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের দিকে যাওয়ার সময় চট্টেশ্বরী মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্য বিনিয়ম ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ ও পাঁচজনকে আটক করে। পরে মিছিলটি কাজির দেউড়ি হয়ে নাসিমন ভবনে গিয়ে সমাবেশ করে।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, হরতালে পিকেটিংকালে ছয় বিএনপি কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এরমধ্যে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আইন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করিম তাজকে ছয় মাসের ও শহর ছাত্রদল নেতা মোজাম্মেল হককে এক মাসের সাজা দেয়া হয়।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, হরতাল সাতক্ষীরার জনজীবনে কোন প্রভাব ফেলেনি। নাশকতা এড়াতে পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আট জনকে আটক করে।
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা  জানান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিএনপি কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান মেম্বার। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উত্তেজিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি নেতা ও মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ আরো চার বিএনপি নেতাকে  অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করেন। এসময় বিএনপির চার নেতাকে আটক করা হয়।
রাজশাহী অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে রাজশাহীতে কয়েকটি অটোরিকশা ও পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করা হয়। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এসি ইফতাখায়ের আলম জানান, নগরীর চারটি থানা পুলিশ ও র্যাব বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি, সহযোগী সংগঠন ও জামায়াত-শিবিরের ৩৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, তারাব পৌরসভার হাটিপাড়া এলাকায় হরতাল সমর্থকরা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়। এতে কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়।
টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী চেরাগ আলী ও কলেজগেট এলাকায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার শেলের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের রাবার বুলেটে ১০ শিবির কর্মী আহত হয়েছেন বলে মহানগর শিবিরের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান দাবি করেছেন।
এছাড়া আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, রবিবার রাত ও সোমবার সারাদিনে পুলিশ জামালপুরে দুইজন, মুন্সীগঞ্জে তিনজন, মাগুরায় তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন, মেহেরপুরে চারজন, বড়াইগ্রামে (নাটোর) তিনজন, গাইবান্ধায় ছয়জন, ভালুকায় একজন, ঘিওরে ৫১ জন, রূপগঞ্জে একজন, যশোরে ২৬ জন ও রংপুরে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
আজ আধাবেলা হরতাল সিলেটে

সিলেট অফিস জানায়, সিলেটে ছাত্রদল ও শিবির পৃথক মিছিল করেছে। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীকে আটক করার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে সিলেট বিএনপি। সোমবার নগরীর জজ কোর্ট এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে সিলেট জেলা ও মহানগরীতে আধাবেলা হরতাল ঘোষণা করা হয়।