অর্থনীতি

এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের পাদুকা শিল্প

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২০

ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাদুকা শিল্প। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০১৬-এর তথ্য অনুযায়ী ৩৫ কোটি জোড়ার বেশি জুতা উত্পাদন করে বাংলাদেশ রয়েছে তালিকার অষ্টম স্থানে। অপরদিকে দেড় হাজার কোটি জুতা উত্পাদন করে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী জুতা উত্পাদন হয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি জোড়া। বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে জুতা উত্পাদন বাড়ছে। ২০১৩ সালে দেশে জুতা উত্পাদন হয়েছিল ২৯ কোটি ৮০ লাখ জোড়া। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ জোড়া। ২০১৫ সালে তা ৩৫ কোটি জোড়া ছাড়িয়ে যায়। সম্ভাবনার বিচারে ফুটওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের জুতা রপ্তানি করা সম্ভব। সাম্প্রতিক এক তথ্যে জানা যায়, ২০১০-২০১৩ সালের মধ্যে বিদেশে জুতা রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে ২০৩ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। গত অর্থবছরে জুতা রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। জাপান এবং জার্মান হলো বাংলাদেশের জুতা শিল্পের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ আমাদের দেশের জুতা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের জুতা শিল্পের রয়েছে গৌরবময় অতীত ইতিহাস। বাংলাদেশে জুতা শিল্পের সূচনা হয় ব্রিটিশ আমলে। তত্কালীন পাকিস্তান আমলে আমাদের দেশের চামড়া ছিল অন্যতম রপ্তানিকারক পণ্য। তখনকার সময়ে এদেশে অনেক জুতা কারখানা গড়ে উঠেছিল। তত্কালীন পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালের দিকে বিখ্যাত জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাটা সু ঢাকার টঙ্গীতে সর্বপ্রথম জুতার কারখানা স্থাপন করে। অপর জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইপসা সু ১৯৬৭ সালের দিকে এদেশে জুতার কারখানা স্থাপন করে। তখনকার সময়ে এদেশে অনেক জুতা কারখানা গড়ে উঠেছিল। এদেশ থেকে রাশিয়া, চেকশ্লোভিয়া এবং ইংল্যান্ডে জুতা রপ্তানি হতো। দেশ স্বাধীন হবার পর বিশ্ব বাজারে আমাদের দেশে উত্পাদিত জুতার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তা জুতা শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসে। বর্তমানে আমাদের দেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলে প্রায় ৩০টির  মতো বৃহত্ জুতা কারখানা গড়ে উঠেছে। দেশের মধ্যে ইয়ং ওয়ান সর্ববৃহত্ জুতার কারখানা স্থাপন করেছে। পৃথিবীর সেরা সেরা ব্র্যান্ডের জুতা এখানে তৈরি হবে। দেশের সেরা জুতা রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে ইয়ংওয়ান, এ্যাপেক্স, ফুটওয়ার ব্লুওশেন, বুনবুন-সু।

বাংলাদেশের উত্পাদিত চামড়ার মান পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক উন্নত হওয়ায় আমাদের দেশের জুতার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে জুতা উত্পাদন হচ্ছে। আমাদের দেশে জুতা শিল্পের প্রসার ঘটাতে অনেক নতুন শিল্প উদ্যোক্তা নতুন নতুন জুতার কারখানা স্থাপনের জন্য জায়গা খুঁজছেন। আমাদের সম্ভাবনাময় জুতা শিল্পকে যদি যথাযথভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তবে জুতা উত্পাদন এবং রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে সরকারের একটু সুনজর একান্ত প্রয়োজন।

      n লেখক :বীমা কর্মকর্তা