আধিপত্য বিস্তার ও আভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যা করার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র। ঐ নেতার বাসা রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত অস্ত্র ব্যবসায়ী সাইফুল্লাহ খান। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ২টি রিভলবার, ১টি পিস্তল এবং এক হাজার রাউন্ড গুলিসহ পূর্ব বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার তৈরী। এ ধরনের অস্ত্র বাংলাদেশে খুব কম পাওয়া যায়। আজ শুক্রবার সাইফুল্লাহকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠাবে পুলিশ।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গ্রেফতারকৃত সাইফুল্লাহ মোবাইল ফোন ম্যাকানিক পরিচয় দিলেও তার আসল ব্যবসা অস্ত্র কেনা-বেচা। তার ১/১১ পূর্ব বাসাবোস্থ ‘মোবাইল সার্ভিসিং ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ নামের প্রতিষ্ঠান (দোকান) থেকে এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল্লাহ জানিয়েছে, যুবলীগের ঐ নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র সে তার এক সহযোগীকে দিয়েছে। সাইফুল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে ঐ যুবলীগ নেতার নাম এবং তাকে যারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল তাদের সম্পর্কে জানতে পারলেও তদন্তের স্বার্থে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ।
এদিকে মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগের ঐ কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে একটি চক্র। সাইফুল্লাহ সীমান্ত এলাকায় যার কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তার সম্পর্কে জানতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-এনআইএর কাছে তথ্য চাওয়া হবে।
