জন্মের আধাঘণ্টা পরই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে চারদিন পর উদ্ধার করে বাবা-মা’র কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে পবা উপজেলার হাটরামচন্দ্রপুর এলাকার ভবানীপুর গ্রাম থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ হাসপাতালের আয়া নার্গিস সুলতানাসহ চারজনকে আটক করেছে। অন্যরা হলেন- খালেদা আক্তার, তার স্বামী জালাল উদ্দিন ও মা সখিনা।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আয়া নার্গিস সুলতানার সহায়তায় খালেদা আক্তার নবজাতকটি চুরি করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে নগীর শাহমখদুম থানায় আয়োজিত পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা আক্তার, তার স্বামী জালাল উদ্দিন ও মা সখিনা ও হাসপাতালের আয়া নারগিস সুলতানাকে হাজির করা হয়। এসময় খালেদা আক্তার জানান, গর্ভে থাকা একটি সন্তানসহ দেড় মাসের ব্যবধানে তার দুই শিশু মারা যায়। এরপর থেকে সন্তান হারানোর শোক ভুলতে তিনি হাসপাতাল থেকে অন্যের সন্তান চুরির পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী রামেক হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে সে ওই নবজাতকটি চুরি করে। এরপর ১০০ টাকায় অটোরিকশা ভাড়া করে সরাসরি বাড়িতে চলে যান। এদিকে, প্রতিবেশীরা খালেদার কোলে নবজাতক শিশু দেখে সন্দেহ করে। তারাই পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ গিয়ে নবজাতকটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, খালেদার স্বামী জালাল উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার ঘোল হারিয়া গ্রামে। খালেদা শিশুটি রামেক হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে গিয়ে স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে মা সখিনা বেগমের বাড়ি উপজেলার ভবানিপুরে যান। শিশুটিকে উদ্ধারের সময় খালেদা পুলিশের কাছে নবজাতকটিকে নিজের সন্তান বলে দাবি করেন। ওইসময় পুলিশের কাছে খালেদা জানায় যে, কয়েকদিন আগে রামেক হাসপাতালে শিশুটিকে তিনি জন্ম দেন। কিন্তু কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পেরে পুলিশ নবজাতকসহ খালেদাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে খালেদার পরীক্ষা করা হয়। খালেদা কোন সন্তান প্রসব করেনি বলেও চিকিৎসকরা পরীক্ষায় নিশ্চিত হন। পরে রাজশাহী মহানগর পুুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন নবজাতকটিকে তার প্রকৃত মা ও বাবা’র হাতে তুলে দেন। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশ কমিশনার জানান। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গোদাগাড়ীর সুরশনিপাড়ার তরিকুলের স্ত্রী রুবিনা প্রসব বেদনা নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর রামেক হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। ২৯ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় রামেক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সিজারের মাধ্যমে ওই নবজাতকের জন্ম হয়।
