সানডের হ্যাটট্রিকে ফাইনালে আবাহনী

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০৮

আবার ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে আবাহনী। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ৪-২ গোলে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আবাহনী গত দুই বারের চ্যাম্পিয়ন। এবার তৃতীয় বারের মতো ফাইনালে উঠেছে। হ্যাটট্রিক শিরোপার পথে আবাহনী।

শেখ জামাল বাধা হয়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং নিজেদের গোলকিপার নাইমের অনভিজ্ঞতায় শেখ জামালের ভালো খেলাটা বিফলে যায়। আবাহনী ভালো খেলেছে। তারা ধারাবাহিকতা রেখে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। আবাহনীর দুর্বলতা ছিল তাদের অধিনায়ক গোলকিপার সোহেল। যে কোনো মুহূর্তে গোল হজম করে আবাহনীকে ডুবিয়ে দেবেন এমন আশঙ্কা আবাহনীর ঘরে বার বার উঁকি দিচ্ছিল।

শেখ জামালকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করে দিয়ে আবাহনী ড্রেসিং রুমে উল্লাস করেছে। সেলফি তুলেছে। খেলোয়াড়রা ড্রেসিং রুমে ঢোকার আগেই আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রুপু মাঠে চিত্কার করে বলছিলেন, কেন ফ্লাড লাইট বন্ধ করে দেওয়া হলো। খেলোয়াড়রা তখনও ড্রেসিং রুমে পৌঁছাননি। দর্শক মাঠে ঢুকে ভিড় জমিয়ে দিয়েছে। যদি কোনো অঘটন ঘটে যেত দায়িত্ব কে নিতেন? নিরাপত্তা সংকট দেখেই রুপু আওয়াজ তুললেন খেলোয়াড়দের পক্ষে।

ওয়ালটন ফেডারেশন কাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে বড় জয়ে আবাহনীর দর্শকরা দারুণ খুশি। শেখ জামালের সঙ্গে আবাহনীর সব সময় একটা লড়াই মাঠে লেগেই থাকে। এই দলের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা আবাহনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে যেমন আত্নতৃপ্তি আনে, তেমনি খেলোয়াড়দের মনেও। হ্যাটট্রিক পেয়ে আবাহনীর নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার সানডে তেমনটাই বলে গেলেন। দারুণ খুশি এই স্ট্রাইকার নিজেও ভাবেননি প্রথম সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক পাবেন। ক্লাব থেকে যখন বেরিয়ে আসছিলেন তখন তার মনে ছিল দলকে জেতাতে হবে। আর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে যখন খেলাটা শেষ করে ঘেমে বের হচ্ছিলেন তখন জয়ের মালাটাই শুধু নয় দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইয়ে ৪ গোলের মধ্যে তিনটি তার নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।

দল জিতেছে নিজেও গোল পেয়েছেন। এই টুর্নামেন্টে আরো দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছে। আফসোস ছিল সানডের। সেই আফসোস মুছে দিলেন এমন এক খেলায় যা তার নিজের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। তাই খেলা শেষে দারুণ খুশি আবাহনীর ঘরের ছেলে হয়ে যাওয়া সানডে। খেলা শেষে আবাহনীর জয়ের চেয়ে সানডেকে নিয়ে আলোচনাটা বেশিই হলো। টানা চতুর্থ মৌসুম খেলছেন আবাহনীর নীল জার্সি গায়ে। ২০১০-১১ মৌসুমে ঢাকার ফুটবলে খেলতে শুরু করেছেন সানডে। প্রিমিয়ার লিগে ৭টি হ্যাটট্রিক রয়েছে তার নামের পাশে। দারুণ স্পিডি।

গোল নিয়ে বলতে নিজের কোনো কৃতিত্ব নিলেন না। পুরো দলের খেলোয়াড়দের ভাগ করে দিলেন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া এই নাইজেরিয়ান।

তার প্রশংসা করলেন হেরে যাওয়া দল শেখ জামালের কোচ আরেক নাইজেরিয়ান যোসেফ আফুসি। খেলা শেষে বলছিলেন, সানডের পারফরম্যান্সে কোনো প্রশ্ন নেই। সে দারুণ খেলে। আবাহনী যেন সময়ের অপেক্ষা করল। প্রথমার্ধের গোল শূন্য খেলার পর পালাক্রমে ৬ গোল হয়েছে আবাহনী ও শেখ জামালের সেমিফাইনালে। আবাহনী আফগান ফুটবলার মাসি সাইঘানি গোলের সূচনা করেন ১-০। পেনাল্টি থেকে সানডে নিজের প্রথম গোল করেন ২-০। ব্যবধান কমান শেখ জামালের দিদারুল আলম ১-২। ৮২ মিনিটে আবার সানডের গোল ৩-১। ৮৪ মিনিটে আবার দিদারুল ব্যবধান কমান ২-৩। জমে উঠা লড়াইয়ে ৮৬ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন সানডে ৪-২।