বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড উয়েফা নেশন্স লিগে ২-১ গোলে হারিয়েছে ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াকে। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও পাওয়া এই জয়ে প্রতিযোগিতার শেষ চার নিশ্চিত করেছে কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের ইংল্যান্ড। গোল করে, করিয়ে দলের জয়ে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ীর এমন নৈপুণ্যের পর উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ড কোচ তাকে বিশ্বসেরা গোলদাতা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
আরেক সেমিফাইনালিস্ট বেলজিয়াম এই প্রতিযোগিতার অপর খেলায় শুরুতে এগিয়ে গিয়েও সুইজারল্যান্ডের কাছে ৫-২ গোলের শোচনীয় হারের কবলে পড়ে।
ইংল্যান্ড ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল। ওয়েম্বলির ম্যাচটিতে গত রবিবার যেন সেটিরই পুনর্মঞ্চায়ন হলো। যদিও ফল হলো উল্টো। ৫৭ মিনিটে আন্দ্রেয়া ক্রামারিচের একটি শট ইংল্যান্ড খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টে ইংল্যান্ডের জালে জড়ালে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৭৭ মিনিটে একটি লম্বা থ্রো ইন থেকে বল পেয়ে গোলমুখে বাড়ান কেইন। সেখান থেকে জালে জড়িয়ে দলকে সমতায় ফেরান জেসে লিংগার্ড।
কেইন বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ছয় গোলের পর ইংল্যান্ডের হয়ে যেন লক্ষ্য ভেদ করতেই ভুলে গিয়েছিলেন। ৮৫ মিনিটে সে গোলখরা কাটালেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আর তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার খেলাটির আগে চার নম্বর গ্রুপে তিন দলেরই সুযোগ ছিল নেশন্স লিগের চূড়ান্ত পর্বে খেলার। চার পয়েন্ট নিয়ে শুরু করা দুই দলেরই প্রয়োজন ছিল জয়। অন্যদিকে এই ম্যাচ সমতায় শেষ হলে পরের রাউন্ডে চলে যেত স্পেন। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডই উঠে গেল নেশন্স লিগের পরের পর্বে।
গোল করে, করিয়ে পিছিয়ে পড়া দলকে জিতিয়েছেন হ্যারি কেইন। খেলা শেষে কোচ সাউথগেটের কণ্ঠে ঝরে পড়লো কেইন স্তুতি। সাউথগেট বলেন, ‘আমি মনে করি হ্যারিই বিশ্বের সেরা গোলদাতা আর তাই তার ক্ষমতার একজন খেলোয়াড়কে মাঠে না নামানোকে আপনি অপছন্দই করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গেল গ্রীষ্মে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছিল কিন্তু হ্যারিই পেনাল্টি নেওয়ার জন্য নির্ধারিত এবং আমাদের নেতাও সেই। ৯৮ শতাংশ ম্যাচে তার ধরে খেলা এবং সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমার্ধে রাহিম (স্টার্লিং) এর জন্য অসাধারণ একটি পাস বের করেছিল। তার প্রতি আমাদের অগাধ বিশ্বাস আছে এবং দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সে যথেষ্ট ক্ষুধার্তও।’
সুইজারল্যান্ড একই রাতে নিজেদের মাঠে বেলজিয়ামকে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে এ লিগের দুই নম্বর গ্রুপের ম্যাচে শুরুতে ফরোয়ার্ড থর্গান হ্যাজার্ডের জোড়া গোলে ১৭ মিনিটেই দুই গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট বেলজিয়াম।
এরপরই দোর্দণ্ড প্রতাপে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ২৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান সুইস ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ। এরপর হারিস সেফারোভিচের জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় সুইসরা। ৬২ মিনিটে নিকো এলভেদির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সুইজারল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে সেফারোভিচ হ্যাটট্রিক পূরণ করলে জয়ের সাথে সাথে নেশন্স লিগের শেষ চারও নিশ্চিত করে ফেলে স্বাগতিকরা।
