অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা জারি

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যাংকগুলোকে নতুন করে অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া এ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট বন্ধ, সম্প্রসারণ বা বন্ধসহ যেকোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

গত সোমবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালাটি জারি হওয়ার পর থেকেই কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম করতে পারবে। এক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ ও আমানত নিতে পারবে। কিন্তু যৌথমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

নীতিমালায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পরে প্রতিটি ব্যাংককে একটি নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। নীতিমালাটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্ধারণ করবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ে কোনোভাবেই ব্যাংকের নষ্ট হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না। মূল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে কোনো হিসাবও সমন্বয় করতে পারবে না। ব্যাংকের রেগুলেটরি মূলধনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অফশোর ব্যাংকিংয়ে নিতে পারবে প্রয়োজনে। অফশোর ব্যাংকিং সেবা ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কেউ নিতে পারবে না।

অফশোর ব্যাংকিং বন্ধের সময়ে মোট দায়ের চেয়ে ব্যাংকিং সম্পদ কোনোভাবেই ৭৫ শতাংশের নিচে হতে পারবে না। অফশোর ব্যাংকিং চালু করার অনুমোদনের পরে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এছাড়া একটি হিসাব খুলতে হবে অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনা করতে।

প্রসঙ্গত, অফশোর ব্যাংকিং হলো— দেশে কার্যরত ব্যাংকের আলাদা ইউনিট। শুধুমাত্র দেশের বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার জন্য ১৯৮৫ সালে এক আদেশে এ ইউনিট গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছরের জুন পর্যন্ত অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫৮ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা না থাকায় ব্যাংকগুলো ব্যাংকগুলো ইচ্ছামত অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনা করেছে। এর মাধ্যমে অর্থপাচার করেছে কয়েকটি ব্যাংক।