দেশে বিনিয়োগ করুন

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এ মাটিরই সন্তান আখ্যায়িত করে তাদের দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রবাসীরা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। অনাবাসিক প্রকৌশলীরা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্পোত্পাদন, যোগাযোগ এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন। তারা পলিসি লেভেল চ্যালেঞ্জ এবং ইনস্টিটিউশন লেভেল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের চলমমান উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে পারেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনাবাসী (এনআরবি) প্রকৌশলীদের প্রথম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার পুরো গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন করতে চায়। আজকে আপনারা যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, বাংলাদেশের কোনো না কোনো গ্রামেই আপনাদের বাড়িঘর, সেখানে আপনাদের শিকড় রয়ে গেছে। শিকড়ের সন্ধান করে আপনাদের যার যার অঞ্চলের কিভাবে উন্নয়ন করতে পারেন, আপনাদের কাছে সে অনুরোধ আমি করবো। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রবাসী প্রকৌশলীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ 

শেখ হাসিনা তার দেশে শিল্পায়নের জন্য বিনিয়োগ একান্তভাবে দরকার উল্লেখ করে বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। বিনিয়োগকারীরা চাইলেই তাদের মুনাফা এবং আসলসহ চলে যেতে পারবেন। মেশিনারি আমদানিতে ট্যাক্স হলিডে পাবেন। ’ তার সরকার সারাদেশে যে একশ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে সেখানে সরকার প্রদত্ত সুযোগ গ্রহণ করে বিনিয়োগে বিদেশীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত ১০ বছরে দেশের অভূতর্পূব উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। দেশের বর্তমান উন্নয়নে প্রবাসীদের অংশগ্রহণমূলক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অর্জিত অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। কাজেই আমরা সবসময়ই প্রবাসীদের সম্মানের চোখে দেখি।

মেধা পাচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, একটা কথা সবসময় বলা হয় যে, ব্রেইন ড্রেইন। আমি সেটা মনে করি না। বরং আমাদের দেশেতো লোকের অভাব নেই, যুব সমাজের অভাব নেই। আমরা যদি তাদের সুশিক্ষিত করতে পারি তাহলে তারা দেশে থেকেই যে, দেশের উন্নয়ন করতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, বিদেশে যারা লেখাপড়া করতে গিয়ে থেকে যান বা বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে বা কর্মসূত্রে বিদেশে গিয়ে যারা প্রবাসী হয়ে যান; তারাও যে অভিজ্ঞতাটা সঞ্চয় করেন, তার মূল্যও কম নয়।

আইসিটি খাতকে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী হাইটেক পার্ক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পার্ক তৈরিতে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে আমরা ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। আমরা দেখেছি, এখানে গ্রামের মায়েরাও প্রবাসী আপনজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য, তাদের দেখার জন্য আঁচলে কয়েকটি টাকা বেঁধে বসে থাকছে। তিনি বিএনপি সরকারের সময় দেশের বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ হারানোর কঠোর সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উেক্ষপণসহ সারাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি দেশের দ্রুত উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্রও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ ইত্যাদি। ২০২১ সাল নাগাদ দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ব্রিজ টু বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফর্মেশন (এটুআই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে সরকারের নীতিগত পর্যায়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অনিবাসী প্রকৌশলীরা কিভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অবদান রাখতে পারেন- সেজন্যই দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং ব্রিজ টু বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আজাদুল হক বক্তৃতা করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মনোয়ার আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।