অদক্ষ আমলাদের দিয়ে কি হবে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২

হাইকোর্ট বলেছেন, নিমতলী ও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতির কোনো কমতি নেই। কিন্তু তার একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। উনার এত সময়ও নেই যে সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকা নিয়ে ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল সরকারি তদন্ত কমিটি। অথচ ৯/১০ বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেননি আমলারা। এ অদক্ষ আমলাদের দিয়ে কী হবে? আদালত বলেন, চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের সাবেক দুই শিল্পমন্ত্রী বাহাসে জড়িয়ে পড়েছেন। এ বাহাসে সরকার সম্পর্কে জনগণের ধারণা কোথায় যায়? সেটাও ভেবে দেখা দরকার। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে এ মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আদেশপ্রাপ্তির চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, জ্বালানি সচিব, বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানসহ দশ বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চকবাজারে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত একগুচ্ছ রিট আবেদনের উপর শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমের উদ্দেশে আদালত বলেন, প্রধানমন্ত্রী এদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। দেশে অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে। অথচ ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দায়িত্বপ্রাপ্তরা (আমলারা)। তাদেরই এটার বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা তো রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা দেখেছি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পৃথক কেমিক্যাল পল্লী বানানো একটি ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু এজন্য জমি অধিগ্রহণ সময়ের ব্যাপার। আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যারা অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন তাদের এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, এটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা চাচ্ছি তাদের যেন ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়।