শীত বিদায় নিতে না নিতেই বৈরী হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি ও বজ পাত হয়। ঝড়ের সময় সাতক্ষীরায় ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে আমের মুকুল ও সবজি ক্ষেতের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। রাতে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হচ্ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে কালবৈশাখী বয়ে যায়। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ এবং নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে হবে।
আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, দিনভর বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে সাতক্ষীরার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫মিনিট পর্যন্ত ৫ মিনিটের এই ঝড়ের আঘাতে কলারোয়ার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় সব কয়টিতে কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে গেছে বড় বড় গাছ। ভেঙে গেছে কাঁচা-বাড়িঘর। উড়ে গেছে ঘরের চাল। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, সকালে শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে পড়ে চন্দনপুর এলাকায় জামসেদ আলি নামের ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল কালবৈশাখী ঝড়, প্রবল বর্ষণ ও শিলা বৃষ্টিতে কাঁচাপাকা প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে ও ভেঙে গেছে অসংখ্য গাছপালা। এসময় গাছ ও ঘর চাপায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আফতাব উদ্দীন বলেছেন, এই বৃষ্টিতে কৃষির তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং এই বৃষ্টিতে আম, কাঁঠাল ও বোরো ধানের দারুণ উপকার হয়েছে।
খুলনা অফিস জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে শুরু হওয়া বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি দুপুর সাড়ে তিনটায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বৃষ্টির পানিতে থই থই করছে খুলনা মহানগরীর পথঘাট। অনেক স্থানে শীলা বৃষ্টিও হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর পথঘাট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
বরিশাল অফিস জানায়, কালবৈশাখীর প্রভাবে গতকাল বরিশাল বৃষ্টি হয়। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়।
বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, গত সোমবার আকস্মিক ঝড়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজসহ দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পায়রা নদীর মোহনায় ডুবে গেছে ১৬টি মাছ ধরা ট্রলার। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তরমুজসহ রবি শস্যের।
