ড. মীজান রহমানের মৃত্যুতে শোক

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৫, ১৭:১৪
 
 
প্রখ্যাত গণিতবিদ, লেখক এবং গবেষক অধ্যাপক ড. মীজান রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। এক শোকবাণীতে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। 
আব্দুল মোমেন শোকবাণীতে বলেন, ড. মীজান রহমান ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাধর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তমানস প্রকৃতির গভীর সমন্বয় তার লেখনীকে করেছে উন্নত ও গ্রহণযোগ্য। গণিতের কঠিন তত্ত্বকে অতি সহজে তুলে ধরার জ্ঞান ও পরিপক্কতা তাকে করেছে আদর্শ শিক্ষক এবং বিশ্বখ্যাত।
ড. মোমেন আরো বলেন, অধ্যাপক মীজান রহমানের মৃত্যুতে জাতি একজন সৎ, সাহসী, নির্ভীক ও উন্নতমানের শিক্ষাবিদকে হারালো। তার অনুপস্থিতি আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তবে কখনো কখনো মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে মৃত্যুকে জয় করতে পারে। মানুষের প্রতি ভালবাসা, মানুষের কল্যাণে নিজের আত্মবিশ্বাস এবং বলিষ্ঠ অবস্থান, বিভিন্ন কলাম ও লেখনির মাধ্যমে তার বিশ্লেষণে বিশেষ পারদর্শিতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সপ্রতিভ উপস্থিতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
ড. মীজান রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক বাঙালী’র সম্পাদক কৌশিক আহমেদ। এখানে উল্লেখ্য, ড. মীজান রহমান ‘সাপ্তাহিক বাঙালীতে’ নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন। 
কানাডার রাজধানী অটোয়ার কালটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের সাবেক অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মীজান রহমান গত সোমবার অটোয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মীজান রহমান দুই ছেলে রেখে গেছেন। আগামী শুক্রবার তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন।
১৯৩২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী মীজান রহমান ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। একই বছর কালটন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। তার লেখা বেসিক হাইপোজিওমেট্রিক সিরিজ কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। প্রগতিবাদী চেতনার ধারক মীজান রহমানের বাংলা ভাষায় লেখা বইয়ের সংখ্যা ১০টি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ এই লেখক নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন।