শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির টুকটাক কাজ। বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিগণ অংশ নেন। ইজতেমায় তারা মাঠের নির্ধারিত ৪০টি খিত্তায় অবস্থান করবেন। গতকাল বুধবার দুপুরে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ব ইজতেমা মাঠের বিশাল এলাকা জুড়ে টাঙ্গানো হয়েছে সামিয়ানা, তৈরি করা হয়েছে বিদেশী নিবাস, বয়ান মঞ্চ, দোয়া মঞ্চ, তুরাগ নদীতে ভাসমান সেতু, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ইত্যাদি। ইতিপূর্বে খুঁটিতে নাম্বার লাগানোর মতো ছোটখাটো কাজও শেষ হয়েছে।
ইজতেমা মাঠের মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রস্তুতিকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কাল শুক্রবার থেকে বাদ ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে।
গতকাল বুধবার রাত থেকেই মুসল্লিরা আসতে শুরু করছেন। তিনি জানান, বিশ্ব ইজতেমার সব কাজ করা হয় মোশাআরার (পরামর্শ) মাধ্যমে।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্নস্থানের তাবলিগ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করেছেন।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের পারাপারের জন্য তুরাগ নদীর উপর এবার সাতটি ভাসমান সেতু স্থাপন করা হচ্ছে।
এদিকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশের কন্ট্রোল রুম। ইজতেমায় পুলিশের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ইজতেমা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, তুরাগ নদী, মাঠের চতুঃপার্শ্ব, ওয়াচ টাওয়ার ও পোশাকে-সাদা পোশাকে পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। সংবাদ কর্মীদের জন্য থাকছে মিডিয়া সেন্টার এবং বিনামূল্যে ওয়াইফাই জোনের ব্যবস্থা। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আনসার, আর্মড পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠে স্থাপিত ১১টি নলকূপের মাধ্যমে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের পানি পান, ওজু-গোসল, পয়ঃনিষ্কাশন ইত্যাদির জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে চারটি জেনারেটরও। ইজতেমার দুই পর্বের প্রথম পর্ব শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার বাদ ফজর থেকে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে ১১ জানুয়ারির রবিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি এবং একই ভাবে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে ১৮ জানুয়ারি।
তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর এ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে। ১৬০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা মাঠে বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলীগ জামাতের অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেন।
