‘দুইবার ভারতে গিয়া সাক্ষী দিয়া আইলাম। হেরা তুচ্ছ কারণে বার বার বিচার বন্ধ কইরা রাখতাছে। খুনি অমিয় ঘোষ দোষ স্বীকার করণের পরেও তারে বাঁচানোর চেষ্টা করতাছে। বিচার নিয়া তামাশা শুরু করছে। আমি আমার মাইয়া হত্যাকারী অমিয় ঘোষের ফাঁসি চাই।’ গতকাল বুধবার দুপুরে নাগেশ্বরীর দক্ষিণ রামখানা কলোনিটারী গ্রামে সীমান্তে ফেলানী হত্যার চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে এ কথা বলেন বাবা নুর ইসলাম। এ সময় মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘বিচার বন্ধ কইরা আমার মাইয়া হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়া থাইক্যা বঞ্চিত করার চেষ্টা করতাছে। হেরা বিচার না করলেও আল্লাহর আদালতে একদিন এদের বিচার হইবোই।’ কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সরকারি লোকজন উপস্থিত না থাকলেও পরিবার, প্রতিবেশী ও পার্শ্ববর্তী হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিশু-কিশোররা ফেলানীর কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করে।
উল্লেখ্য ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে ৯৪৭নং আন্তর্জাতিক পিলার ৩নং সাব পিলারের পাশ দিয়ে মই বেয়ে কাটাতার ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় টহলরত চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাকে গুলি করে হত্যা করে। প্রায় ৬ ঘন্টা কাটাতারের সাথে ঝুলে থাকে ফেলানীর লাশ। পরদিন ৮ জানুয়ারি বর্ডার গার্ড, পুলিশ প্রশাসন এবং বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেলানীর লাশ হস্তান্তর করে। ৯ জানুয়ারি লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার গ্রামের বাড়ি নাগেশ্বরীর দক্ষিণ রামখানা কলোনীটারী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
