অগ্নিদগ্ধ বাস-হেলপার মুরাদের বাঁচা হলো না

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৫, ১১:৫৮
বাস হেলপার মুরাদের আয়ে সংসার চলত। আয় না করলে তার মা-বাবা, ভাই-বোন না খেয়ে থাকবে। তাদের জন্য তিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাঁচা হলো না। পাঁচ দিন টানা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন তিনি। রবিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল ইসলাম মিন্টু তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 
উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে যশোর শহরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পার্কিং করা দুটি বাসে অবরোধ সমর্থকরা আগুন দেয়। এর মধ্যে একটিতে ঘুমিয়ে ছিলেন বাস হেলপার মুরাদ হোসেন (২৫)। তিনি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার কানুটিয়া গ্রামের তোরাব মোল্লার ছেলে। আগুনে মুরাদ মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। তার মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ দেহের ৩৭ ভাগ পুড়ে যায়। তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। পুলিশ গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুরাদের মৃত্যু হলো।
এদিকে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহিনুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মামলা করেন। মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা দুইশ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু, যশোর পৌরসভার মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, তরিকুল ইসলামের ছেলে জেলা বিএনপি সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, জেলা ছাত্রদল সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, জেলা যুবদল সভাপতি এহসানুল হক মুন্না প্রমুখ।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনও মুরাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় করা মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে। ঘটনায় জড়িত আট জনকে আটক করা হয়। শীর্ষ নেতারা পলাতক রয়েছেন।