মেয়েকে ঘুমিয়ে রেখে মা ফিরে এসে পেলেন লাশ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৫, ২২:০৬

 

সকাল ৭টায় নুরুন্নাহার বেগম তার বড় মেয়ে জয়নবকে নিকটস্থ জাফরাবাদ আদর্শবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে যান। যাওয়ার আগে ছোট শিশু ফাতেমাকে কম্বলের নিচে ঘুম পাড়িয়ে ঘরে তালা দিয়ে যান। আগুন লাগার খবরে বস্তিতে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার বসত ঘর, সঙ্গে কলিজার টুকরো ফাতেমাও। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফাতেমা যে ঘরে ছিল তার পাশের ঘর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।
রায়ের বাজার হ্যাবলা ম্যানেজারের বাসায় নুরুন্নাহারের আহাজারি-বিলাপে সান্ত্বনা দিতে যাওয়া লোকজনকেও চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমার ফাতেমা নাই রে, আমার ফাতেমা কই গেছে রে! আর্মি-বিডিআর কেউ আমার ফাতেমার খবর দিতে পারে না রে, ফাতেমা পুইড়া কইলা হইয়া গেছে, অনেক খুঁজেছি, কোথাও কোন সন্ধান পাই নাই রে।’
 রবিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার পুলপাড় (রায়ের বাজার) বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়ে মারা যায় তিন বছর বয়সের ফাতেমা। সন্তান ফাতেমার ছবি হাতে নিয়ে এভাবেই শোকের মাতমে চারপাশ ভারী করে তুলছিলেন মা নুরুন্নাহার । গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে পুড়ে গেছে ফাতেমা। পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে উদ্ধার করা হয় ফাতেমার মরদেহ।
ফাতেমার বাবা আব্দুল জয়নাল রিকশাচালক। কাক ডাকা ভোরেই তিনি রিকশা নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। তার বাড়ি শরীয়তপুর সদরে। বারবার ফাতেমার কথা মনে করে মূর্ছা যাচ্ছিলেন নুরুন্নাহার । রঙিন ফ্রেমে বেঁধে রাখা বড় মেয়ে জয়নব ও ছোট মেয়ে ফাতেমার ছবি দেখিয়ে আহাজারি করে বলেন, ‘আমি এইডা কী করলাম, কির লেইগা ফাতেমারে স্কুলে নিলাম না। স্কুলে নিলে মাইয়াডা বাঁইচা যাইতো। আমার মাইয়ার জোড় বেজোড় হয়ে গেল রে!’ পুড়ে প্রায় কয়লা হয়ে যাওয়া মেয়ের শরীরটা বুকে জড়িয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন বাবা আব্দুল জয়নালও। তিনি বলছিলেন, ‘খোদা আমারে নিয়া যাইতা। আমার ফাতেমাডারে ক্যান নিলা রে। ওর কি দোষ ছিল।’