জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, জাতি আজ মহাদুর্যোগে। মানুষের রক্ত নিয়ে হোলি খেলা হচ্ছে। জানমাল নিয়ে চলছে ছিনিমিনি খেলা। এ কোন রাজনীতি! আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দল দুটিকে পরিত্যাগ করুন। কারণ তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়তে পারবে না। মানুষ এ দু’দলের অপরাজনীতি থেকে বাঁচতে চায়। আমরাও চাই দু’দলমুক্ত রাজনীতি।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক ‘শান্তি সমাবেশে’ তিনি এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, অন্যায়কে সহ্য করা বড় অপরাধ। আমরা বসে থেকে অপরাধী হতে পারি না। রাস্তায় নামতে হবে। এদের ঘৃণা করতে হবে। ঘরে বসে থাকলে চলবে না। জনগণকে প্রতিবাদ করতে হবে, এদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপনাদের আর কত লাশের প্রয়োজন! মানুষ মেরে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। নতুন বছরে জনগণকে কি উপহার দিয়েছেন? ২৮ জন মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ২৪ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই কী উপহারের নমুনা! ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে মানুষকে পুড়িয়ে মারেন, এই কী রাজনীতি! এরশাদ বলেন, মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। নারী, শিশু কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। বাসের হেলপার ঘুমিয়ে ছিল, তাকেও পুড়িয়ে মারা হয়েছে। কারও প্রতি মায়া-মমতা নেই।
আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমালোচনা করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল মানুষকে জিম্মি করে রাজনীতি করতে চায়। আরেক দল ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরীর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস-সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ হবে।
সমাবেশে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক সন্ত্রাস চলছে। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। সমাবেশে সভাপতিত্বকারী ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপার আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে মিছিল-মিটিং করার গণতান্ত্রিক অধিকার দিতে হবে, একইসঙ্গে জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করতে হবে। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সুনীল শুভরায় ও এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।
