বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের দ্বাদশ দিনে শনিবার প্রভাব পড়েনি রাজধানীর জনজীবনে। সকাল থেকেই গণপরিহনের যানবাহন চলাচল অন্যান্য দিনের তুলানায় কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যান চলাচল বেড়েছে। রায়েরবাগ, দারুসসালাম ও মিরপুরে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রায়েরবাগে প্রাইম প্লাস পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সুলতানা ইসলাম দীবা আহত হন।
রাজধানীর তিনটি বাস টার্মিনাল গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়েছে।
সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব এনায়েতুল্লাহ জানান, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার উদ্দেশ্যে দূরপাল্লার বাস তেমন চলেনি। তবে অন্যান্য জেলায় বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সোহাগ পরিবহনের মালিক ফারুক তালুকদার সোহেল জানান, দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল করেছে। তবে আতংকের মধ্যে এই গাড়ি চালাতে হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাসের যাত্রীও ছিল না। আর্থিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে।
সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া তিশা পরিবহনের (কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর) পরিচালক ওমর ফারুক জানান, অবরোধে এ পর্যন্ত তাদের পরিবহনের ৪ টি বাস ভাংচুরের শিকার হয়েছে।
শনিবারও বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে বাসে তেমন যাত্রী ছিল না। এ কারণে প্রতিটি বাসের ট্রিপ শেষ করে কয়েক হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটে আন্ত:নগর ট্রেনগুলো গড়ে ১০/১২ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল করায় বিলম্ব হচ্ছে।
শনিবার দিনাজপুরগামী দ্রতযান এক্সপ্রেস, নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ধূমকেতু ও পদ্মা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী ও গোধূলী, সিলটেগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস, খুলনাগামী সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন গড়ে ১২ ঘন্টা থেকে ১৪ ঘন্টা বিলম্বে চলাচল করেছে। এই বিলম্বের কারণে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেসব ট্রেন শনিবার সকাল থেকে ৯ টার পর থেকে পর্যায়ক্রমে ছেড়ে গেছে।
যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটির যাত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুলতানা ইসলাম দীবা আহত হন।
যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা প্রাইম প্লাস পরিবহন বাসটি রায়েরবাগে পুনম সিলেমা হলের সামনে পৌঁছালে ভাংচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে তারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মাদ বলেন, দীবার আঘাত তেমন গুরুতর নয়। বাসটিতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় দীবা জানালা দিয়ে লাফ দেয়ায় তার পায়ে আঘাত লাগে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেল বার্ণ ইউনিটে চিকিত্সা দেয়ার পর তাকে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। অবশ্য পুলিশ দাবি করেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। পরে বাসের যাত্রীরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিকাল ৫টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় আরেকটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
