ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদ দমনে জোট গঠনের উদ্যোগ নিতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা গতকাল সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডারিকা মোঘারিনি বলেন, আরব দেশগুলোর সাথে ইউরোপের মধ্যকার সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা দরকার। সন্ত্রাস দমনে জোট গঠন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আমরা আরব লীগের সেক্রেটারি জেনারেলের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করবো। খবর বিবিসির ও রয়টার্সের।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ইরাক ও সিরিয়া ফেরত ইসলামিক স্টেট আইএস’র হয়ে যুদ্ধ করা ইউরোপের তরুণদের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কট্টরপন্থি ইসলামিক জঙ্গি প্রতিরোধ করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন ও ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর সাথে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ সম্মেলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। লন্ডনে অনুষ্ঠেয় আইএস বিরোধী ঐ বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির যোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে ফেডারিকা মোঘারিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর দেশগুলোর সাথে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরো সহযোগিতা বাড়াতে হবে। মোঘারিনি বলেন, প্যারিসই শুধু সন্ত্রাসী হামলার শিকার তা নয় বরং তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে যা শুরু হয়েছে ইসলামিক দেশগুলোতে। আরব দেশগুলোর সাথে ইউরোপের দেশগুলোর সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এছাড়া নিজেদের মধ্যেও সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। আমাদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানসহ সব ধরনের সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড মোঘারিনির কথায় সুর মিলিয়ে বলেন, বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যা কবলিত। এভাবে চলতে থাকলে এসব সন্ত্রাসীরা সম্মুখযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। মুসলিম দেশগুলোকে এবং ইউরোপের দেশগুলোকে রক্ষার জন্য আমাদের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।