রাজধানীর জনজীবনে গতকাল মঙ্গলবার অবরোধের তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। গতকাল ছিল টানা অবরোধের ১৫তম দিন। সকাল থেকেই গণপরিহনের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। গুলিস্তানে একটি বাস ও টিকাটুলীতে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধকারীরা। এছাড়া সকালে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের স্থানীয় কার্যালয় জ্বালিয়ে দেয়া হয়। রাতে সচিবালয়ের এক নম্বর গেটে একটি ককটেল ছোঁড়া হয়।
গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ থেকে দূরপাল্লার তেমন কোন বাস ছেড়ে যায়নি। পুলিশ পাহারায় দূরপাল্লার কয়েকটি বাস চলাচল করেছে। এই তিন টার্মিনালে দূরপাল্লার বাসগুলো পার্কিং করা ছিল। তবে ঢাকার সঙ্গে আশেপাশের জেলাগুলোর সংযোগ রক্ষাকারী বাসগুলোর চলাচল প্রায় স্বাভাবিক ছিল। মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের উদ্দেশে বাস ছেড়ে গেছে। আবার সেখান থেকেও বাস এসেছে।
কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটে আন্ত:নগর ট্রেনগুলো অবরোধের ১৫ তম দিনে এসে গড়ে একদিন বিলম্বে চলাচল করছে। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন দিয়ে বিলম্বের সময় কমিয়ে আনা হচ্ছে। দিনাজপুরগামী দ্রতযান এক্সপ্রেস, নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ধূমকেতু ও পদ্মা এক্সপ্রেস, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস, খুলনাগামী সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন গড়ে ২২ থেকে ২৮ ঘন্টা বিলম্বে চলাচল করেছে। এই বিলম্বের কারণে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেসব ট্রেন আজ বুধবার দুপুরের পর থেকে পর্যায়ক্রমে ছেড়ে যাবে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার সকালে রায়েরবাগে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের স্থানীয় কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। ১০ ফুট বাই ১২ ফুট টিনশেডের এই কার্যালয়টি অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই পুড়ে যায়। সন্ধ্যার পর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্কোয়ারে কে বা কারা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট যাওয়ার আগে জনতা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলে। একই সময়ে ইত্তেফাক মোড়ে কে বা কারা একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়। পরে আশেপাশের লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে।