নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেইনি: ওবামা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৫, ১৩:০১
রাজনৈতিক মতভেদ দূরে ঠেলে আমেরিকানদের স্বার্থে কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আমেরিকার নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন কোন পদক্ষেপ আমি কখনো নেইনি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
বারাক ওবামা বলেছেন, নতুন শতাব্দীর ১৪ বছরে যত সমস্যা দেখা দিয়েছিল, ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে তা দূর করতে আমরা অনেকটা সক্ষম হয়েছি। অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতেও আমরা অনেকখানি অগ্রগতি সাধন করেছি। ১৯৯৯ সালের পর গত ৫ বছরে আমেরিকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। ১১ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা বিস্তারেও আমাদের অহংকার করার মত ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, মাঝারি আয়ের আমেরিকানদের অর্থনীতির ভিত মোটামুটি মজবুত হয়েছে। এটি বড় ধরনের সাফল্য আমাদের সকলের। তবে, সকলকে আরো কঠোর শ্রম দিতে হবে এবং প্রশাসনকেও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অবস্থা যত ভালো হবে, ততই সুসংহত হবে আমেরিকার অর্থনীতি। চলতি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত আয়ের পথ সুগম রাখতে হবে এবং এটি হচ্ছে মধ্যম শ্রেণির মানুষের জীবনমানের পরিমাপ। সে আলোকে স্বল্প আয়ের কর্মজীবী পরিবারের জন্যে ট্যাক্স হ্রাসের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
ওবামা বলেন, একটি বিষয়ে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। সেটি হচ্ছে কর্মজীবীরা অসুস্থ হলে তাকে সবেতন ছুটি প্রদান এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি থাকতে হবে নারী শ্রমিকের জন্যে। এই ছুটি তারা পাবেন বেতনসহ।
ওবামা উল্লেখ করেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, চার কোটি ৩০ লাখ আমেরিকান শ্রমিক এখনও অসুস্থ হলে তারা সবেতন ছুটি পান না। এ অবস্থা চলতে পারে না। আমার কাছে একটি বিল পাঠান, যেখানে অসুস্থ কর্মচারীদের জন্য সবেতন ছুটির বিধি থাকবে। বিষয়টি করার এখনই সময়।
তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির আহবানে অনেকেই এখনও সাড়া দেননি। বার্ষিক ১৫ হাজার ডলার যারা আয় করেন, তাদের পরিবার চলে কীভাবে সেটি ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে কংগ্রেসের। নিম্ন আয়ের এসব মানুষদের কথা বিবেচনা করে কংগ্রেসের উচিত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
ওবামা বলেন, ২০১০ সালের পর ইউরোপ, জাপান এবং এগিয়ে চলা বিশ্বের চেয়ে আমেরিকায় বেকারত্ব হ্রাসের ঘটনা অনেক বেশী। আমাদের শিল্পকারখানায় আট লাখের বেশী কর্মসংস্থান হয়েছে-যারা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন।
তিনি বলেন, আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী পণ্য আমরা রফতানি করছি। এতদসত্ত্বেও চীন চাচ্ছে সবার ওপরে থাকতে। আমরা সেটি দেখতে চাই না। আমাদেরকে এগিয়ে থাকতে হবে এবং সেভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
ওবামা বলেন, বহির্বিশ্বে কাজ করিয়ে অনেক কোম্পানী সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এদের ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ট্যাক্সের ঐ অর্থে স্বল্প আয়োর শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
ওবামা বলেন, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে আমার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আমেরিকাকে নিরাপদ রাখা এবং যে কোন ধরনের হুমকির মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকা। আমি সেটি করছি। তবে, এ ব্যাপারে আমেরিকার নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন কোন পদক্ষেপ আমি নেইনি। সকলের সাথে সম্পর্ক অটুট রেখে আন্তর্জাতিকভাবে আমেরিকার নেতৃত্ব বহাল রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।
ওবামা বলেন, আমেরিকা তার নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এজন্যে কোন শক্তি নেই যারা আমেরিকার নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে পারে। এমনকি আমেরিকার ব্যবসায়িক সিক্রেটও কেউ চুরি করতে পারবে না। যে কোন ধরনের সাইবার হুমকি আমরা গুড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
ওবামা বলেন, ইসলামিক স্টেটের নামে মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্য এলাকায় সন্ত্রাসী তত্পরতা রোধে কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধ রয়েছে-সেটি আমার জন্যে সুখের বিষয়। এভাবেই আমরা আমাদের কূটনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনে সক্ষম রয়েছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের ব্যাপারেও আমাদের কূটনৈতিক তত্পরতা সাফল্য দেখছে। নিউক্লিয়ার তৈরির ব্যাপারে ইরান আগের মত কট্টর অবস্থানে নেই। আলোচনার মধ্য দিয়েই উত্তাপ কমেছে মধ্যপ্রাচ্যে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও সন্ত্রাসবাদ দমনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
ওবামা বলেন, আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারে শ্রদ্ধাশীল। এজন্যে ইমিগ্রেশন ইস্যুতে রাজনৈতিক মতভেদের উর্ধ্বে উঠতে চাই। নভেম্বরের নির্বাচনের আগের অবস্থা এখন নেই। এখন সময় এসেছে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের ঐক্য গড়ার এবং সেই ঐক্যকে ইমিগ্রেশন ইস্যুতে কাজে লাগাতে হবে।