বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের কোন আশঙ্কা দেখছে না যুক্তরাজ্য। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র নিয়ে খামখেয়ালির’ অভিযোগ রয়েছে। গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার নিয়েও অনেক বিশ্লেষকের প্রশ্ন আছে। কেউ কেউ মনে করছেন খালেদা জিয়া প্রত্যাশা করতে পারেন যে, তার বর্তমান কৌশল সেনাবাহিনীকে আরো একবার হস্তক্ষেপ ও আওয়ামী লীগ সরকারকে উত্খাতের দিকে ঠেলে দিবে। যদিও এখন পর্যন্ত সেরকম ঘটার কোন লক্ষণ নেই। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে জমা দেয়া প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গত বুধবার প্রকাশিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সের বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ‘পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ :জানুয়ারি ২০১৫ আপডেট’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে গত ৫ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূর্তি ও পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। এদিকে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ এশীয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দল। তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি চলছে তা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’।
এদিকে গতকাল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দলের প্রধান জ্যঁ ল্যাম্বার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, সব রাজনৈতিক দলকেই ‘জনগণের অবাধ চলাফেরা, সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ল্যাম্বার্ট বলেন, সরকার ও বিরোধী দল সবার কাছেই আমাদের এ প্রত্যাশা, যার অভাব আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি। ইপি দৃঢ়ভাবে আশা করে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা ভবিষ্যতে যাতে আরো বিপদের মুখে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো ‘সত্যিকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত সংলাপে’ বসবে।
