বাংলাদেশে সেনা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নেই: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৩৮

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের কোন আশঙ্কা দেখছে না যুক্তরাজ্য। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র নিয়ে খামখেয়ালির’ অভিযোগ রয়েছে। গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার নিয়েও অনেক বিশ্লেষকের প্রশ্ন আছে। কেউ কেউ মনে করছেন খালেদা জিয়া প্রত্যাশা করতে পারেন যে, তার বর্তমান কৌশল সেনাবাহিনীকে আরো একবার হস্তক্ষেপ ও আওয়ামী লীগ সরকারকে উত্খাতের দিকে ঠেলে দিবে। যদিও এখন পর্যন্ত সেরকম ঘটার কোন লক্ষণ নেই। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে জমা দেয়া প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গত বুধবার প্রকাশিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সের বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ‘পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ :জানুয়ারি ২০১৫ আপডেট’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে গত ৫ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূর্তি ও পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।  এদিকে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ এশীয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দল। তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি চলছে তা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’।  

হাউজ অব কমন্সের ব্রিটিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। এর মাঝে রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগে সেনাবাহিনী কয়েক দফায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় ‘সার্কিট ব্রেকার’ হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের সব পক্ষকেই সংযত হয়ে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে সেনাবাহিনী সবসময় একটি রাজনৈতিক ভূমিকা রেখে এসেছে। সাধারণভাবে যা আওয়ামী লীগের প্রতি বৈরী। দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হলে অনেকে আশা করেছিলেন বাংলাদেশ অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে বের হতে পারবে। তবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিবাদের কারণে সেই সুযোগ ভেস্তে গেছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই প্রতিবেদনে ‘রাজনৈতিক সংঘাতের’ মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলা হয়, অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও সামাজিক উন্নয়নেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আশরাফুজ্জামান ও মঈনুদ্দিনকে হস্তান্তরে বাংলাদেশ থেকে কোন অনুরোধ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। কয়েক বছর ধরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত চাওয়ার কোন অনুরোধও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছায়নি বলে এতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে তাদের ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বা এমন দণ্ড পেতে পারেন এ ধরনের কাউকে যুক্তরাজ্য হস্তান্তর করে না। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না— এমন নিশ্চয়তায় তাদের হস্তান্তর করা যেতে পারে। 

এদিকে গতকাল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দলের প্রধান জ্যঁ ল্যাম্বার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, সব রাজনৈতিক দলকেই ‘জনগণের অবাধ চলাফেরা, সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ল্যাম্বার্ট বলেন, সরকার ও বিরোধী দল সবার কাছেই আমাদের এ প্রত্যাশা, যার অভাব আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি। ইপি দৃঢ়ভাবে আশা করে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা ভবিষ্যতে যাতে আরো বিপদের মুখে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো ‘সত্যিকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত সংলাপে’ বসবে।