চট্টগ্রামে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণী উৎসব

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫, ১৪:২৫



বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘দেশে বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষ আছে। তাদের জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য বই পড়ার বিকল্প নেই।’ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের (বইপড়া) পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
পুরস্কার বিতরণী উৎসবে ২০১৪ শিক্ষাবর্ষে মহানগরীর ৭৩ বিদ্যালয়ের চার হাজার ৫৯৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের প্রাণের মেলা বসেছিল চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা কখনো বলবে না খারাপ আছি। বলবে না মন খারাপ। সব সময় বলবে ভালো আছি।’
নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘তোমরা বই পড়বে স্বপ্ন দেখার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য, মানুষ হওয়ার জন্য। বর্তমানে পৃথিবীতে অদ্ভুত সব ব্যাপার ঘটছে, তা হলো যা কিছু বইতে আছে তা শিশুরা বিশ্বাস করতে চাইছে না। এর জন্য শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের উদাসীনতা দায়ী। বই থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সন্তানকে নম্বর বেশি পাওয়ার জন্য পড়াবেন না। তাদের মানুষ হওয়ার, স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিন।’
টিভি ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার বলেন, ‘তোমরা মনে রাখবে আজ যা রূপকথা তা আগামী দিনের বাস্তবতা। প্রথমে স্বপ্ন দেখতে হয়। যে মানুষ স্বপ্ন দেখে না সে সৃষ্টিশীল মানুষ হয় না। বড় হতে পারে না। তোমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আমাদের সম্পদ হচ্ছে মানুষ। সেরা মানুষ তৈরি করতে পারলে আমরা পৃথিবী জয় করতে পারবো।’
উৎকর্ষ কার্যক্রমের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের চট্টগ্রামের হেড অব রিজিওনাল শাহ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আজাদ বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন বই পড়ার এত সুযোগ ছিল না। স্কুলে লাইব্রেরি ছিল না। একজন একটি বই সংগ্রহ করতে পারলে সব বন্ধু পড়তাম। তোমাদের বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। বই পড়ার এ অভ্যাস বজায় রাখলে তোমরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি তোমরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেবে, দিতে পারবে।’
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সাবেক ডেপুটি টিম লিডার নজরুল ইসলাম, মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, অধ্যক্ষ এইচএম ফজলুল কাদের, কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর কর্মসূচির সমন্বয়কারী, সাংবাদিক সুমি খান প্রমুখ। কেন্দ্রের ডেপুটি টিম লিডার মেজবাহ উদ্দিন সুমনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর কর্মসূচির সংগঠক আলেক্স আলীম।