নটরডেম কলেজে পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫, ১৮:০১
­­­
‘সবুজ পৃথিবী পেতে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে শুক্রবার রাজধানীতে শুরু হয়েছে ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল ন্যাচার সামিট-২০১৫।
সবুজ বিশ্ব নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে নটরডেম কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিন ব্যাপি এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
সম্মেলনের শেষ দিন শনিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দিবেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী  আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
কলেজ অধ্যক্ষ ফাদার ড. হেমন্ত পিয়াস রোজারিও এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষক অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস.কে. সুর চৌধুরী, অ্যামেরিকান কালচারাল সেন্টারের সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকর্তা জর্জ মেসোথস, প্রকৃতি ও জীবন ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদ হুসাইন, অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক বিল্পব কুমার দেবসহ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুকিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্ব আজ হুমকির সম্মুখিন। দেশে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ সমুদ্র তীরবর্তী উপকূলে বাস করে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আগামী ২১ শতকে ১৭ হাজার কি.মি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। ঘর ছাড়া হবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ থেকে রক্ষা পেতে হলে তিনটি উদ্যোগ দ্রুত নেয়া প্রয়োজন। এগুলো হলো, কার্বন নি:সরণকারী উন্নত দেশ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, সবুজ ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্ষতিকর গ্যাস নি:সরণ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা গেলে আগামীতে সবুজ বিশ্ব নির্মাণে কোন বাধা থাকবে না।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, জলবায়ু, প্রকৃতি ও পরিবেশ তিনটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা সজাগ না হলে প্রকৃতির জীবন থমকে যাবে। আমাদের সামনে যত বাধাই আসুক একে রক্ষা করতে হবে। পরিবার থেকেই শিশু-কিশোরদের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। গাছের পাতা ও ফুল ছিড়া যাবে না-শৈশব থেকে এ শিক্ষা দিলে  ভবিষ্যত তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হবে। তবেই সবুজ ও বাসযোগ্য বিশ্ব নির্মাণ হবে।
পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৬ টি ইভেন্টে  প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।  এগুলো হল, ন্যাচার অলিম্পিয়াড, ওয়াল ম্যাগাজিন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প প্রদর্শনী, কনফাব সেমিনার ও টার্ন কোট। আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৮টি দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে, ভারত, নেপাল, জাপান, চীন, উজবেকিস্তান, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া, উগান্ডা প্রমুখ। অন্যদিকে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০টি দলে ২৭৪ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।