রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ট্রাকের বহরে হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস.এম জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান অবরোধ ও হরতালে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে বৃহস্পতিবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক বিএনপি-জামায়াতের নয় নেতাকর্মীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের জেল এবং প্রত্যেককে পাঁচশ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আরেফিন এই দণ্ডাদেশ দেন। রাতেই দণ্ডিত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, ট্রাকের বহরে হামলার মামলার এজাহারে আটজনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। অপর ৩৫ আসামি অজ্ঞাত। আসামিদের সকলেই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এই মামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের বহরে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্রেটার রোডের বর্ণালীর মোড় থেকে দড়িখরবোনা মোড় পর্যন্ত পেট্রোল ও হাতবোমা নিয়ে অবরোধ সমর্থক জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ট্রাকে ভাংচুর চালায় এবং পেট্রোল বোমার সাহায্যে আগুন দেয়ার চেষ্টা ছাড়াও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকানপাটে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসায় দুই সহোদর প্রেস কর্মচারী কাজেম আলী ও মাজেম আলী এবং চায়ের দোকানদারকে বোমা হামলা চালিয়ে আহত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে নগরীর ভদ্রায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী শিশির পরিবহনের বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু ও রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ বিএনপি-জামায়াতের ২৯ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই মামলার আসামিরাও এখনো গ্রেফতার হননি বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডিতরা হলেন, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের শ্রমবাড়িয়ার আবুল হোসেনের ছেলে তানজির হোসেন (২১), নগরীর মেহেরচণ্ডী পূর্বপাড়ার রুব্বান আলীর ছেলে নবাব আলী (২৪), ষষ্টিতলার ইসলাম শেখের ছেলে রবিউল ইসলাম রুবেল (২২), নতুন বিল-সিমলার ফজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান পাপ্পু (২০), লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়র আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নাঈম (১৮) ও একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে রিফাত হোসেন (১৮), মতিহারের ইমাতপুরের আব্দুল জলিলের ছেলে মফিজুল হক (২৮), মীরকামারির নুরুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন (৪০) এবং কর্ণহারের শাহাদ আলী তালুকদারের ছেলে আলী হোসেন (৫০)।
এদিকে, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চারঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিন এবং পবা উপজেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেনকে পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে নগরীর মতিহার থানার শামসাদীপুর থেকে রবিনকে এবং কাটাখালী থেকে আলী হোসেনকে আটক করা হয়। উভয়ের বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। সম্প্রতি চাল ও ধানের কুড়া বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে আগুন দেয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তাদের মদদ রয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
