ফুল ফুটে মাঠেই ঝরে পড়ছে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:১৫

হরতাল-অবরোধের আগুনে পুড়ে ছাই হতে চলেছে ফুলচাষিদের স্বপ্ন। লাভের আশায় মাঠের পর মাঠ ফুল ফুটিয়েছিলেন তারা। কিন্তু মাঠে ফুটে মাঠেই ঝরে পড়ছে ফুল। ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালীতে চাষিদের মধ্যে তাই হাহাকার পড়ে গেছে। টানা হরতাল আর অবরোধে আয়ের উত্স বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাদের।  লাভজনক হওয়ায় গদখালীর চাষিরা জমিতে ফসলের পরিবর্তে ফুলের আবাদ করে থাকেন। বছর জুড়ে তারা নানা ধরনের ফুল উত্পাদন করেন। শুধু গদখালীতেই বছরে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেন চাষিরা। ফুল বিক্রির টাকায় চলে তাদের জীবন। যশোরের গদখালী এলাকার ফুলচাষিরা জানান, ইংরেজি নববর্ষের আগের দিন জামায়াতের হরতালের কারণে ফুলচাষিদের আশার গুড়ে বালি পড়ে। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে এ অঞ্চলের কৃষকদের দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট ছিল। কিন্তু হরতালের কারণে বিক্রি অর্ধেকে নেমে যায়। এরপর ৫ জানুয়ারি থেকে চলছে টানা অবরোধ আর হরতাল। অবরোধে আরও দুই কোটি টাকার লোকসানের শিকার হয়েছেন ফুলচাষিরা। তবে গত বৃহস্পতিবার হঠাত্ গদখালীর পাইকারি বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। টানা তিন সপ্তাহ দরপতনের পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় ঐদিনের বাজারে।

গদখালী ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোর জেলায় সাড়ে ৪ হাজার কৃষক ফুল চাষ করেন। এর মধ্যে ঝিকরগাছা ও গদখালীতে রয়েছেন সাড়ে তিন হাজার ফুলচাষি। এসব চাষির উত্পাদিত ফুল গদখালীর হাটে কেনাবেচা হয়। গোটা দেশের ফুলের চাহিদার ৭০ ভাগ গদখালী থেকে সরবরাহ করা হয়। এসব ফুলের অর্ধেক পাঠানো হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে। বাকি অর্ধেক যায় উত্তরাঞ্চলের জেলাসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে। অবরোধের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কিছু ফুল পাঠানো গেলেও অন্য এলাকায় ফুল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ফুলচাষিরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, বিশেষ দিন ছাড়াও স্বাভাবিক সময়ে স্থানীয় গদখালী ফুলহাটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হলেও অবরোধের বাজারে এক থেকে দেড় লাখ টাকার ফুল বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার হরতাল-অবরোধের মধ্যেই হঠাত্ ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। দাম বেড়ে প্রতিশ গোলাপ বিক্রি হয় দেড়শ থেকে দুশ টাকায়। রজনীগন্ধা একশ টাকা, গ্লাডিউলাস ৩শ থেকে ৬শ টাকা এবং জারবেরা ৮শ থেকে ১৫শ টাকায় প্রতিশ বিক্রি হয়। তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই দর ফুল ভেদে ২শ থেকে এক হাজার টাকা কম।  

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি ও গদখালী ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, ‘দেশের বিভিন্ন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের জন্য ফুলের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে এখানে আসছেন।  তবে ফুল পরিবহনে ট্রেনে তুলতে অনীহা এবং বাড়তি টাকা দাবিসহ নানা হয়রানির বিষয়টি বৃহস্পতিবার যশোরের জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’ তবে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবির হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘ফুল পরিবহনের সুবিধার জন্য ট্রেনের যাত্রাবিরতি কিছুটা দীর্ঘায়িত করার দাবি করেছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। আমি যশোর-বেনাপোলের কমিউটার ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির সময় বাড়ানোর কথা স্টেশন ম্যানেজারকে বলে দিয়েছি।’