প্রতিবছরের মত এবারো বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও এসেম্বলি। আগামী মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনিতে স্টেট সিনেট ও এসেম্বলি হলে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এটি হবে তৃতীয় আয়োজন।
এদিকে দিবসটি উদযাপনে কাজ শুরু করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বন্ধু হিসাবে পরিচিত নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজ এবং এসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে ব্রঙ্কসের নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের স্টারলিংক অ্যাভিনিউর নিরব রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতির কথা জানান এসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা।
মতবিনিময় সভায় এসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা জানান, এবছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, এ বছর সিনেট ফ্লোরে কারা যাবেন তা নির্ধারণ করবেন তিনি এবং সিনেটর রুবিন ডিয়াজ। এছাড়া অনুষ্ঠানে দেয়া প্রক্লেমেশনের ভাষা কী হবে তাও নির্ধারণ করবেন তারা দুজন। প্রোক্লেমেশনের ভাষা নিয়ে কোনো বাদানুবাদ অগ্রাহ্য করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগের বছর দেয়া প্রোক্লেমেশনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করায় বাদানুবাদ শুরু হয়। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সুরাহা করেন লুইস সেপুলভেদা ও রুবিন ডিয়াজ। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পুরো দায়িত্ব সরাসরি পালন করবেন তারা।
মতবিনিময় সভায় আব্দুস শহীদ, কামরান রিয়াজ, নাসরিন আহমেদ, মির্জা মামুন, জন উদ্দিন, ইমরান শাহ রণসহ ব্রঙ্কসের বেশ কয়েকজন কমিউনিটি লিডার উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়া নিউইয়র্কের বাংলা গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সম্পাদক মতবিনিময় সভায় তাদের পরামর্শ দেন। তারা হলেন, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ প্রমুখ। তবে মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল কম।
সভায় কামরান রিয়াজ বলেন, অতীতে নাম সর্বস্ব নেতাদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মুলপর্বে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এসব অনেকে পছন্দ করেনি। লুইস সেপুলভেদার কাছের লোকেরা অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
নাসরিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দিবস উদযাপন বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের। কিন্তু এ অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কিছু লোকের নেতৃত্বদানের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। এটা আমাদের কাম্য নয়।
এ প্রসঙ্গে লুইস সেপুলভেদা বলেন, বিগত দুই বছরের অনুষ্ঠানে কাউকেই নেতা নির্বাচন করা হয়নি। আহ্বায়কও করা হয়নি। আশা করি এ বছর থেকে সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। কারা কীভাবে আনবেনি যাবেন এটা তাদের ব্যাপার। এ ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও এসেম্বলির রীতি অনুয়ায়ী বাংলাদেশ দিবস উদযাপন করা হবে। কারো কোনো কিছু জানার বা পরামর্শ থাকলে সরাসরি তাকে এবং সিনেটর রুবিন ডিয়াজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দেন রুইস সেপুলভেদা। অনুষ্ঠানটি সফল করতে বাংলাদেশিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
