গার্মেন্ট খাতসহ দেশের সব কর্মক্ষেত্রের শ্রমিকদের বীমার আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। কোনো শ্রমিক আহত, নিহত বা চলাচলে অক্ষম হলে তাদের বীমার অর্থ পাওয়া নিশ্চিত করারও আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কর্মদিবসে প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ৩ টাকা করে প্রিমিয়াম হিসেবে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে আইএলও। বাংলাদেশে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে কাজ করা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আস্থার অভাব রয়েছে। এ জন্য মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বয়ে ‘সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স স্কিম’ চালু করার উপর জোর দেন তারা। কর্মশালায় মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা এক্ষেত্রে সরকার, বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদেরও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
‘ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল’র মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র বলেন, বর্তমানে কারখানায় শ্রমিকদের জন্য যে বীমা ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। অর্থাত্ ক্ষতি যত বড়ই হোক বীমার আওতায় আসবে মাত্র ২০ জন। ফলে সব শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পান না। এ জন্য সব শ্রমিককে বীমার আওতায় আনা এবং তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া এ বীমার প্রিমিয়াম এককভাবে মালিকপক্ষের উপর না চাপিয়ে ক্রেতাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের জন্য বীমা চালু রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে তারা আহত, নিহত বা দুর্ঘটনার কারণে চলাফেরায় অক্ষম হলে ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকেন। তবে নতুনভাবে এ বীমা চালু করতে হলে এককভাবে মালিকপক্ষের উপর চাপ না দিয়ে শ্রমিক, সরকার ও ক্রেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
আইএলও’র সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যানা ড্রিন বলেন, শ্রমিকদের জন্য বীমা ব্যবস্থা চালু হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়াবে। সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতায়ও এগিয়ে রাখবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আহমেদ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
