রাজধানীর রামপুরায় র্যাবের চেকপোষ্টে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই যুবকের পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে একজনের নাম নাম আবুল কালাম আজাদ (৪৫) ও অপরজনের নাম সুলতান (৪০)। নিহত দুই জনই পেশায় গাড়ি চালক। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এসে লাশ সনাক্ত করেন।
নিহত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহিনুর বেগম জানান, তার স্বামী প্রাইভেট কার চালক। গত ২১ ডিসেম্বর তার স্বামীর সাথে শেষবার মোবাইল ফোনে তার কথা হয়েছিল। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এর আগে গত অক্টোবর মাসে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান। পরিবার নিয়ে টঙ্গীর এরশাদ নগরের পাশে চাংখিরটেক গ্রামে থাকতেন তিনি। আজাদ ভোলা সদরের বাপতা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। সোমবার সকালে নাম না বলে আজাদের বন্ধু পরিচয়ে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানায় যে লাশ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পড়ে আছে। পরে তিনি সোমবার সন্ধ্যায় মর্গে এসে তার স্বামীর লাশ সনাক্ত করেন। তাদের শিল্পী (১৮), রজিনা (১৭), আফসানা (১) নামে তিন মেয়ে রয়েছে। শিল্পী ও রোজিনা টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে।
নিহত সুলতান ছিলেন আজাদের সহযোগী। তিনিও পেশায় গাড়ি চালক ছিলেন। গাজীপুরের টঙ্গীতে সুলতানের বাসা। গতকাল সন্ধ্যায় মর্গে সুলতানের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে একজন মহিলা লাশ শনাক্ত করেন। তবে তিনি সুলতানের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার ভোরে রামপুরার বনশ্রীতে র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হন। ঐ সময় র্যাব তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি। র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, র্যাবের চেকপোষ্টে একটি প্রাইভেট কারকে থামার সিগন্যাল দিলে প্রাইভেট কার থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। র্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ঐ দুইজন নিহত হয়। নিহতদের বিরুদ্ধে গাড়ি ছিনতাই, র্যাব ও পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি, ভূয়া র্যাব সদস্য সেজে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
