গ্লেন্ডা জ্যাকসন একজন সেলিব্রিটি, দুইবার অস্কার বিজয়ীর সঙ্গে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি না: টিউলিপ সিদ্দিক

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৪০

১৯৭০ সালে ভারত উপমহাদেশে নতুন জাতির জন্ম দেয়া রাজনৈতিক পরিবার থেকে টিউলিপ সিদ্দিকের জন্ম। তার নানা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি পাকিস্তানের হাত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার চার বছর পর এক সামরিক অভ্যুত্থানে পরিবারের ১৮ সদস্যসহ নিহত হন তিনি।

টিউলিপের খালা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট হ্যাম্পস্টিডের ফিঞ্চলি রোডের টিউলিপের বাসাটি তার রাজনৈতিক পরিবারের অনেক সাক্ষর বহন করছে।
ঘরে পেতে রাখা সোফায় বসে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, “আমার কাছে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু সত্যি কথাটি হলো, আমি যখন খালার সঙ্গে কথা বলি, কথা হয় কেবল আমার বিয়ে, নাতি-নাতনী, দুপুর বা রাতের খাবার নিয়ে। আর মূলত গল্প-গুজব চলে। আমার খালা বিশ্বের দরিদ্রতম একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার আসলে আমাকে পরামর্শ দেয়ার মতো সময় নেই”।
বিখ্যাত আত্মীয় থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে টিউলিপ প্রায়ই আলাপ করেন গ্লেন্ডা জ্যাকসনের ছেলে ড্যান হজের সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে টিউলিপ বলেন, “গ্লেন্ডা সম্পর্কে ড্যান হজ বলেন, অনেকে প্রশ্ন করে, এমন বিখ্যাত মা থাকার ব্যাপারটা কেমন লাগে? আমি উত্তর দিই, আমার তো আর কোন মা ছিল না, নেইও। আমিও আমার খালা সম্পর্কে এমনটি অনুভব করি”।
উল্লেখ্য, গ্লেন্ডা তার নির্বাচনী এলাকা ১৯৯২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তিনি দুইবার অস্কার বিজয়ী। তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে টিউলিপ বলেন, “গ্লেন্ডা একজন সেলিব্রিটি। আমি তার মতো সফল মানুষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি না। তার দুইটি অষ্কার রয়েছে এবং তিনি সে আসনে জয়লাভ করেছেন যেখানে তার জেতার বিষয়ে কেউ ভাবেনি। গ্লেন্ডা একটি পাওয়ারহাউজ। আমি তার তুলনায় একেবারে আলাদা মানুষ এবং আমি আলাদা ধরনের সংসদ সদস্য হব।“
তবে নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি প্রসঙ্গে মিস সিদ্দিক বলেন, “গ্লেন্ডা বাস করেন লন্ডনে। কিন্তু আমি সকালে জিমের উদ্দেশ্যে গেলেও মানুষের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। অর্থাৎ আমার প্রতিনিয়ত সবার সঙ্গে দেখা হয়। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় বাস করি এবং নির্বাচনী এলাকার জন্য কাজ করি”।
উল্লেখ্য, ১৫ বছর বয়স থেকে মিস সিদ্দিক সপরিবারে হ্যাম্পস্টিডে বাস করছেন। তিনি মিচহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতামাতা কিলবার্ন শহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৫ বছর বয়সে মিস সিদ্দিকের পরিবার ব্রুনেইতে চলে যায়। সেখানে তার বাবা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষকের চাকরি নেন। কিন্তু তার চার বছর পর বাবার আকষ্মিক স্ট্রোকে পরিবারটি অনেকটা যাযাবর পরিবারের মতো জীবন গ্রহণ করে।
পরিবারটি ব্রুনেই থেকে যায় সিঙ্গাপুর। তারপর ভার, বাংলাদেশ ঘুরে আবার ফিরে যায় লন্ডনে। বাবার চিকিৎসা চলে দীর্ঘদিন। একটি অস্ত্রপচারের পর বাবার জীবন হুইলচেয়ারে আবদ্ধ হয়।
“বড় হতে হতে নিজে থেকে মনে হলো, এনএইচএস আমার বাবাকে সত্যিই সাহায্য করেছে। যে কারণে আমি লেবার পার্টিতে যোগদান করি” বলেন টিউলিপ।
ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করার পর টিউলিপ সিদ্দিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা একটি ফার্মে কাজ করেন। ফার্মটি থেকে তিনি “জিনিয়াস” হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
২০১০ সালে তিনি রিজেন্ট’স পার্ক ওয়ার্ডের ক্যামডেন কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। খুব দ্রুত তিনি ক্যাবিনেট সদস্যপদ লাভ করেন। ২০১২ তে সারা হেওয়ার্ডকে হারিয়ে তিনি কাউন্সিল লিডার হন। গত বছর পর্যন্ত তিনি ক্যাবিনেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মিস জ্যাকসনের স্থলে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টিউলিপ। বিশ্বাস ও বিশ্বস্ততার প্রশ্নে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ধর্মের দিক দিয়ে তিনি মুসলমান। কিন্তু ধর্মের চেয়ে বেশি সাংস্কৃতিমনা তিনি।
(হ্যামহাই)