জানা-অজানা

সাগর রত্ন প্রবাল

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৩

সাগর-মহাসাগরের তলায় রয়েছে এক আশ্চর্য জগত্—সেখানে বসবাস করে বিচিত্র সব প্রাণী। আর তাদেরই অন্যতম ‘কোরাল’ বা ‘প্রবাল’—এক ধরনের অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

মৃত কোরালের দেহ স্তূপাকারে জমা হয়ে নানা আকৃতির কাঠামো তৈরি করে। আমরা যাকে বলি ‘কোরাল রিফ’ বা ‘প্রবাল দ্বীপ’। অবশ্য কোরাল রিফ গঠন নির্ভর করে সাগরতলের পরিবেশের ওপর। বিশেষ করে তাপমাত্রা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবের উপস্থিতিই জানান দেয় যে সেখানে এই ‘সাগর রত্ন’ আদৌ তৈরি হবে কি না। গ্রেট বেরিয়ার রিফ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরাল রিফ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অন্তর্গত। দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫০০ মাইল। আয়তন প্রায় ৩,৪৮,৪০০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের কারণে প্রবাল প্রাচীরটিকে মহাকাশ থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়। প্রায় ২৯০০ ছোট ছোট খণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই বৃহত্ প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত। বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অন্যতম। অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও দ্বীপটি উল্লে­খযোগ্য স্থান দখল করে আছে। অন্যান্য বড় প্রবাল দ্বীপের মধ্যে আছে রেড সি কোরাল রিফ। এটি ইসরাইল ও মিশরের নিকটবর্তী রেড সি-তে অবস্থিত। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ।

কোরাল কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে কঠিন কার্বন-ডাই-অক্সাইডে পরিণত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই কঠিন কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে বলেন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঙ্কাল। ফলে বাতাস থেকে প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস কমে যাচ্ছে। আলো জ্বলা কোরাল সমুদ্রের আলোর উত্স হিসেবেই নয় বরং এর ওপর জন্মানো শৈবালের খাদ্য উত্পাদনের জন্য সালোক সংশ্লেষণে সাহায্য করে। প্রবাল প্রাচীর সমুদ্রসৈকতকে ঘূর্ণিঝড়, ঢেউ ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে।

প্রবালের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় অলঙ্কার হিসেবে। নানান বাহারি অলঙ্কার তৈরিতে প্রবালের জুড়ি নেই। এর মধ্যে লাল প্রবালের চাহিদা খুব বেশি। অনেক আগ থেকেই নানান রোগে মানুষ প্রবাল পাথর ধারণ করত। তবে বর্তমানে আধুনিক অনেক ওষুধে প্রবালের ব্যবহার রয়েছে। এটি ক্যান্সার ও এইডসের প্রতিষেধকে রাসায়নিক উপাদান হিসেবে খুব ব্যবহূত হয়। মানুষের হাড় ভাঙার চিকিত্সায় বোন গ্রাফটিং-এ প্রবালের কঙ্কাল ব্যবহার হয়। অনেক এলাকায় কন্সট্রাকশনের কাজেও প্রবাল ব্যবহূত হয়ে থাকে। একুয়াকালচারেও প্রবালের চাহিদা রয়েছে।

সাগরের সৌন্দর্য এবং মানুষের ব্যবহারিক জীবনে কোরালের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মানুষের কিছু কমর্কাণ্ড এবং দূষণের কারণে ধীরে ধীরে এই ‘সাগর রত্ন’ হারিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের বুক থেকে। একে রক্ষা করা না গেলে সেটা হবে প্রকৃতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।