দ্রুত সংকট সমাধান করুন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৫, ২৩:৫৮

চলমান অবরোধে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি তুলে ধরে দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন রপ্তানিখাতের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। সেইসঙ্গে আন্দোলনের নামে যারা নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছে, তাদের আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সামারি ট্রায়াল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনের সামনে গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের উদ্যোগে এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ যৌথভাবে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। তাদের সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অবরোধে পেট্রোল বোমা হামলায় নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও ব্যবসায়ের ক্ষতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে হরতাল বন্ধে আইন করার দাবি জানান। এ সময় একাধিক রপ্তানিকারক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করে কেউ যেন ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে সে আহ্বানও জানান।
আতিকুল ইসলাম চলমান অবরোধে গার্মেন্টস রপ্তানিখাতের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে বলেন, সামপ্রতিক সময়ে রপ্তানি অর্ডার কমেছে ৩০ শতাংশ। পোশাক শিল্প আজ কঠিন ইমেজ সংকটের পাশাপাশি অস্তিত্ব সংকটে। ২০১৩ সালের সংকট কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলাম। এখন এর থেকে বের হয়ে কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো?
এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন হরতাল অবরোধের বিরুদ্ধে আইন করার দাবি জানান।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করুন। আমরা সংঘাত চাই না। শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চাই।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসলাম সানি বলেন, ডিসেম্বরের পর বায়াররা আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা সব সফর বাতিল করছেন। বিশ্ব মিডিয়া রক্তাক্ত বাংলাদেশকে দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দয়া করে এমন কোন কর্মকাণ্ড করবেন না যাতে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে।
গার্মেন্টস ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পগুলোর সংগঠন বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, সরকারকে সহনশীল হতে হবে। বিএনপিকেও বোমা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস বলেন, শিল্প রক্ষার স্বার্থে এই মুহূর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।
বিজিএমইএ’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের (ব্যবসায়ীদের) ব্যবহার করে কেউ যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার বা ক্ষমতায় যেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ছাড়াও গার্মেন্টসের বিভিন্ন ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প মালিকদের প্রতিনিধিরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল।
দুই নেত্রীকে স্মারকলিপি
মানববন্ধন শেষে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী বা বিএনপি চেয়ারপারসনের সাক্ষাত্ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে অর্থনীতি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

খালেদা জিয়ার কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমকে হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়। সেইসঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গার্মেন্টস ও এক্সেসরিজের পণ্যবাহী পরিবহনের পথকে অবরোধের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানানো হয়। এ সময় আসলাম সানি, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচিসহ ১৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।