রাজধানীর ডেমরার কাঠের পুলের মোল্লা ব্রিজের কাছে বাসে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়েছেন জমির আলী। মুখমন্ডল ও দুই হাত পুড়ে গেছে তার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্বাসনালীও। পোড়ার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন জমির আলী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের ডাক্তাররা বলছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চিকিত্সাধীন জমির আলী কেবল বিলাপ করছেন। যাকে পাচ্ছেন তাকেই বলছেন, ১০ বছর যাবত্ বাসে হেলপারি করছি। দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। নিজের হাত খরচের জন্য কিছু টাকা রেখে বাকিটা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম। এটা দিয়েই সংসার চলত। এখন কেমনে আমার সংসার চলবে? স্ত্রী আর ছেলেমেয়েরা না খেয়ে মারা যাবে। জমির আলী বলেন, আমি কি দোষ করেছি? আমি কেন এতো কষ্ট পাবো?
তার আহাজারিতে কাঁদছে আশপাশের বেডে থাকা রোগীরাও। কাঁদছে জমির আলীর স্বজনরাও। জমির আলী আক্ষেপ করে বলেন, জীবনটা যে এভাবে তছনছ হবে তা জানা ছিল না। একটি কথা বলেই চুপ করে থেকে আবার চিত্কার করে বলে ওঠেন, রাজনীতির নামে আমরা কেন বলি হব?
২৩ জানুয়ারি রাতে গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী ওই বাসটি গুলিস্তান থেকে ছেড়ে রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যাচ্ছিল। ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় আসামাত্র কয়েকজন যুবক বাসের সামনে এসে দাঁড়ায়। চালক বাসটি থামান। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মারে। বাসের যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকেন। এরই মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। দগ্ধ হন জমির আলীসহ ২৭ জন।
ঘটনাস্থলে ছুটে আসা লোকজন সিএনজি অটোরিকশায় করে অন্যদের সঙ্গে তাকেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যান।
জমির আলীর বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার হাইল ঝুঁড়ি গ্রামে। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। টানাটানির সংসারে নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। সাত সদস্যের এই পরিবারে উপার্জন করার একমাত্র মানুষ ছিলেন জমির আলী। সেই তিনি এখন বার্ন ইউনিটে। অবরোধের আগুনে পুড়েছেন জমির, জ্বালা ভোগ করছে তার পরিবারও।
