পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পৌর এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ কাজে স্থানীয় পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এতে আশেপাশের ৫টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ার পাশাপাশি ফসল বাজারজাতকরণ এবং চলাচলে সময় ও খরচ বাঁচবে স্থানীয় কৃষকদের। দীর্ঘদিন রাস্তার অভাবে লক্ষ্মীপুর, চমরপুর, আমোষ ও ফেচুয়ান গ্রামবাসীকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে সাঁথিয়া সদরে আসতে হতো। বোয়ালমারী গ্রামবাসীকে চার গ্রামে যেতে একই রকম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। দুই কিলোমিটারব্যাপী রাস্তাটির দুই পার্শ্বে রয়েছে কৃষি জমি।
জানা যায়, উপজেলার বোয়ালমারী, লক্ষ্মীপুর, চমরপুর, আমোষ ও ফচুয়ান গ্রামবাসী দ্রুত উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে একটি সহজ রাস্তার প্রয়োজন বোধ করছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে। ২০১৮ সালে ওই গ্রামগুলোর সচেতন মহল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কৃষি জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ওই সময় জমি ও অর্থের জটিলতায় রাস্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছরের প্রথম থেকেই পূর্ণরায় পৌর সভার বোয়ালমারী কবরস্থান থেকে চমরপুর কেনেল পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেন সাঁথিয়া পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম ও ব্যাংক কর্মকর্তা মনজুরুল হক। পৌর মেয়রের সহায়তায় ও জনতা ব্যাংক দুলাই শাখার ম্যানেজার মনজুরুল হকের তত্ত্বাবধায়নে রাস্তা নির্মাণে কাজ শুরু করে এলাকাবাসী। প্রথমে অনেকেই জমি দিতে না চাইলে তাদের বুঝিয়ে ও কিছু জমি ক্রয় করে পরে রাস্তার কাজ শুরু করে সমন্বয়কারীরা। গত জানুয়ারি মাস থেকে প্রায় ২ শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ২ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেন। তারা ছুটির দিনে রাস্তার মাটির কাজ করে থাকেন।
সরেজমিনে বোয়ালমারী-চমরপুর রাস্তার নির্মাণ কাজ দেখতে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার যুবক, ছাত্র, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তা নির্মাণে কাজ করতে উপস্থিত হয়েছে। কারো হাতে কোদাল, কারো হাতে বাঁশের টুকরী। দেখে মনে হচ্ছিল সবাই যেন পেশাদার শ্রমিক। নিজেদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশাকে প্রাপ্তিতে পরিণত করতে আগ্রহের যেন শেষ নেই।
চমরপুর গ্রামের কামরুজ্জামান সেলিম, শামসুল আলম, লক্ষ্মীপুরের মমিন ও বোয়ালমারী গ্রামের মনছুর রহমান জানান, রাস্তাটি ছিল মানুষের প্রাণের দাবি। রাস্তাটি নির্মাণ হওয়ায় সবচে বেশি সুবিধা পাবে কৃষকরা। যা ফসল উত্পাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
চমরপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা মনজুরুল হক জানান, ‘গ্রাম হবে শহর’ বর্তমান সরকারের এ স্লোগানকে সামনে রেখে সাঁথিয়ার মেয়র মিরাজুল ইসলামের সহযোগিতায় আমরা রাস্তাটি নির্মাণ করছি। এতে ৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সুবিধাভোগী হবে। তারা সহজে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
সাঁথিয়া পৌরসভার মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, লক্ষ্মীপুর, চমরপুর, আমোষ ও ফেচুয়ান গ্রামবাসীকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে আসতে হতো। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চকের মধ্যে দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের। সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এলাকাবাসীকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছি রাস্তা নির্মাণে। গ্রামবাসীও নিজেদের প্রয়োজনে স্বেচ্ছায়শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে রাস্তাটি পাকাকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
