ঢাকা মাতালেন ভারতীয় শিল্পী অর্ক মুখার্জি

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৫, ০৯:৫৬

ভারতের শিল্পী অর্ক মুখার্জি। কণ্ঠ আর সুরের জাদুতে মাতিয়ে দিলেন ঢাকার শ্রোতাদের। ঝাঁকড়া চুলের দোলায় ভরাট গলায় সুরের খেলায় মাত করেন দর্শক-শ্রোতাদের। গানের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলে আলাপচারিতা জমিয়ে তুলে দর্শকদের সঙ্গে যেমন সংযোগ ঘটালেন, তেমনি অনবদ্য সুরের জাদুতে পরিচয় দিলেন সুফি গানে তার মুন্সিয়ানার।
অবশ্য গানের ফাঁকে নিজেই একবার বললেন, সুফি গানের সংজ্ঞা আমি জানি না; কিন্তু গান, সুর আমাদের কোন এক মহাকালের দেখা পাওয়ার ডাকই তো দিয়ে যায়। শিল্পী ‘কে ডাকে আমায়’ গানটি দিয়ে তিনি শুরু করেন তার পরিবেশনা। এরপর তিনি পরিবেশন করেন  ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’ গানটি। তিনি গেয়ে শোনান মরমী শিল্পী আব্দুল আলীমের ‘দুয়ারে আইসাছে পালকি নায়োরিগো তোলো’ গানটি।
এরপর তিনি ফরাসি গান ‘রে দিসসো রেই’ পরিবেশন করেন। তারপর তিনি ‘খাজা বাবা খাজা বাবা মারহাবা মারহাবা’ ও ‘দিল্লিতে নিজামউদ্দিন আউলিয়া’ গান দুইটি গেয়ে তার পরিবেশনা শেষ করেন। গানের ফাঁকে তিনি বর্ণনা করেন সুফিবাদের উত্পত্তি। ভারতে সুফিবাদের প্রসারের ইতিহাস, যা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
অর্ক মুখার্জির পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসে মিসরের সুুফি গানের দল মালাইয়া। আমের এলটনির নেতৃত্বে এ দলটির পরিবেশনায় অসাধারণ সব সুফি গানের সঙ্গে ছিল নাচও। মিসরের বিভিন্ন লোকজ যন্ত্রের ব্যবহারে মালাইয়ার গানগুলো এই উত্সবের ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
শীতের রাতে সুফি গানের উষ্ণতা ছড়ালেন শিল্পীরা। সামরিক জাদুঘরের মাঠে রাত যত গভীর হয়েছে শীত যত তীব্র হয়েছে শিল্পীদের গানের উষ্ণতা ততই ছড়িয়েছে দর্শকদের হূদয়ে। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও বোদ্ধা শ্রোতার উপস্থিতি সুন্দর করে তুলেছিল উত্সব প্রাঙ্গণকে। ব্লুজ কমিউনিকেশনস-এর আয়োজনে সুফি ফেস্টের স্টেজটিকেও সাজানো হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। আমি মন-মন্দিরে পূজা দেব- সত্যম শিবম অনন্তম দীল কাবাতে নামাজ পড়বো ু আল্লাহু আকবর। বাউল শফি মণ্ডল যখন এ গান ধরলেন উপস্থিত মানুষ বুঁদ হয়ে উপভোগ করলেন তার কণ্ঠে সুরে বাঁধা দর্শনের কথা। সুফিবাদের শক্তি এমনই যে সর্বধর্ম সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে মানুষকেই উঁচুতে তুলে ধরেছে। মানুষজন্ম যেন সুন্দর ও মানুষের জন্য নিবেদিত হয় সে কথাই বলেন শিল্পীরা গানে গানে। সুফি গানের সাধকদের কাছে গানের বাণী হচ্ছে জীবন-জিজ্ঞাসার অন্বেষণ। সুরের আশ্রয়ে গানের কথায় ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ যে ঈশ্বর মানুষের জন্য, মনের মুক্তির জন্য, সকল হিংসা-হানাহানি ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে জীবনের জয়গান গায়।
গতকাল বুধবার সুফি ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের রব ফকির, বেবী দেওয়ান, শফি মণ্ডল সুফি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ভারতের অর্ক মুখার্জি, মিসরের মওলাওয়াইয়া, ব্রাজিলের প্রোজেটো সারাভা ও ভারতের মুনওয়ার মাসুম। গতকাল সুফি ফেস্টের শুরু হয় বাংলাদেশের রব ফকির ও বাউল শফি মণ্ডলের গান দিয়ে। তাদের গানের দলের সবাই সাদা পোশাকে স্টেজে আসে। সুফি গানের অধ্যাত্মবাদের সঙ্গে যেন শান্তির বাণীও নিয়ে এসেছেন  তারা। শুরুতেই তারা লালন সাঁইয়ের ‘আমার মনের মানুষেরও সনে’ গানটির একটি ইন্সট্রুমেন্টাল ভার্সন পরিবেশন করেন। এরপর রব ফকির পরিবেশন করেন ‘সাধ্য কিরে আমার সেরূপ চিনিতে’ গানটি। এরপর দলের আরেক সদস্য বেবি দেওয়ান পরিবেশন করেন ‘তোরা কে কে যাবি জিয়ারতে বাবার দরবারে’। এরপর সংগীত পরিবেশ করতে আসেন শফি মণ্ডল। তার গাওয়া ‘আমি মন মন্দিরে পূজা দিব’ গানটিতে সুফিবাদের যে আর্তি ফুটে ওঠে তা দর্শক-শ্রোতাদের যেন অন্য জগতে নিয়ে যায়। শফি মণ্ডলের পর আবার স্টেজে আসেন বেবী দেওয়ান। তিনি পরিবেশন করেন ‘গুরুর চরন-অমূল্য ধন’। এরপর আবার মঞ্চে এসে শফি মণ্ডল পরিবেশন করেন ‘অযতনে ডুবলো ভরা’ গানটি। আজ বৃহস্পতিবার সুফি ফেস্টের সমাপনী দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের লাবিক কামাল গৌরব, ডেনমার্কেও সেরেনাস, স্পেনের জিকর ও পাকিস্তানের সঙ্গীত শিল্পী রাহাত ফতেহ্ আলী খান।
কবিতা-গানের যুগলবন্দি ‘ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি’
গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে কবিতা-গানের যুগলবন্দি ‘ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে কবিতা ও গান পরিবেশন করেন হাসান মাহমুদ ও আনিসা ফজলে লিসি। স্বপ্নকুঁড়ির ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুধাংশ শেখর বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জিককুর রেজা খানম, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজয় শ্যাম ও কণ্ঠ শিল্পী ফরিদা পারভীন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।
শিল্পকলায় তিন নৃত্যনাট্য
জাতীয় নৃত্যনাট্য উত্সবের দ্বিতীয় দিনে বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় তিনটি নৃত্যনাট্য। শুরুতে সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হয় ড. এনামুল হকের পরিচালনায় নৃত্যনাট্য ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’। গ্রামের সহজ-সরল মানুষের জীবনভিত্তিক নৃত্যনাট্য ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’। সোনাহাটি গ্রামের সবাই মোটামুটি সচ্ছল। প্রায় সবাই কৃষক। ওই গ্রামেরই পরোপকারী, উচ্ছল ছেলে কদম। পাশের গ্রামে থাকে তরুণী পারুল। নদীর ঘাটে আসে সখীদের সাথে। একদিন কদম-পারুলের প্রেম হয়। গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। সুখের সংসার চলছিল তাদের। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন থাকেনি। বন্যা সবকিছু ভাসিয়ে নেয়। এরপর গ্রামে অভাব চলতে থাকে। তার ওপর খরা। কদম ভাবে দূর দেশে গিয়ে ব্যবসা করবে, সংসারের অভাব মেটাবে। এ বাসনা নিয়ে সে তার বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নৌকায় পাড়ি দেয়। কিন্তু বিধি বাম। নৌকাডুবি সব শেষ করে দেয়।
নৃত্যাংশে ছিলেন এনামুল হক বাচ্চু, সাজিয়া রহমান প্রিসিলা, মোসাদ্দেক আলী অপু, বেলাল হোসেন চঞ্চল, মিজানুর রহমান সোহাগ, শেখ ওমর  উদ্দীন, আনিসুজ্জামান রুবেল, পৃথিশ কুমার ম্লল, অথৈ রায় শিল্পী, সুমনা আক্তার শান্তা, কামরুন্নাহার তানিয়া, সোনিয়া নাসরিন, সুরভী ক্রজ, মাফুজা খানম লিজা, ফেরদৌসী খানম, বিপাশা মল্লিক, সিরাজুল ইসলাম হিরা প্রমুখ। এরপর ৭টায় বেলায়েত হোসেন খানের পরিচালনায় পরিবেশিত হয় ‘সামান্য ক্ষতি’। ফাতেমা কাশেমের নৃত্যপরিচালনায় রাত ৮টায় পরিবেশিত হয় নৃত্যনাট্য ‘গুনাই বিবি’।
কবিতা-গানের যুগলবন্দী ‘ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি’
গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে কবিতা-গানের যুগলবন্দী ‘ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে কবিতা ও গান পরিবেশন করেন হাসান মাহমুদ ও আনিসা ফজলে লিসি। স্বপ্নকুঁড়ির ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুধাংশু শেখর বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জিককুর রেজা খানম, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম ও কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরি।
মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ‘প্রমিথিউস’
মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন নাটক ‘প্রমিথিউস’। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীস্থ সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে হয়ে গেল নাটকটির ১০ম মঞ্চায়ন। স্কাইলাসের ‘প্রমিথিউস বাউন্ড’ অবলম্বনে গ্রীসের ট্রাজেডী নাটকের উত্থান কালের এই নাটকটি রূপান্তর করেছেন আনন জামান। দলটির ৩০তম প্রযোজনার এই নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।