কাপ্তাইয়ে পর্যটকদের আগ্রহ পাহাড়ি আনারসে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২

পাহাড়ে বিপুল পরিমাণে আগাম উত্পাদিত হচ্ছে আনারস। এসব আনারস কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বিক্রির জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর— যে যেভাবে পারছেন বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাপ্তাই উপজেলার লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট, লেকশোর পিকনিক স্পট, কাপ্তাই নতুন বাজার, চিত্মরম বাজার ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপারিরা সারি সারি আনারস বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। কাপ্তাই লেকের উপর বিক্রির জন্য নৌকা ভর্তি আনারস দেখা গেছে। মোঃ শেকান্তর আলী নামক এক ব্যবসায়ী বলেন, পাহাড়ে এবার প্রচুর আনারস উত্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের বসবাসকারীরা এসব আনারস খুব বেশি খায় না। তাই বিক্রির জন্য পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে আসা নুরজাহান নামক এক নারী পর্যটক চার জোড়া আনারস কিনেছেন। এতগুলো আনারস কেন কিনেছেন জানতে চাইলে ঐ ওই নারী বলেন, চট্টগ্রামে সচরাচর এরকম আনারস পাওয়া যায় না। দেখতে বেশ তরতাজা। আর দামও খুব বেশি নয়। ফজলুর রহমান নামের এক পর্যটক বলেন, আমি ১০ জোড়া আনারস কিনেছি। আমার সাথে যারা এসেছেন তারা সবাই আনারস কিনেছেন বলেও তিনি জানান। কাপ্তাই লেকশোর পিকনিক স্পটেও আনারস বিক্রির ধুম দেখা গেছে। আনারস বিক্রেতা গফুর মিয়া জানান, প্রতিদিন আনারস বিক্রি করে প্রায় ৫শ টাকা মুনাফা হয়। এই মুনাফার টাকায় সংসার চলে এবং ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ সংকুলান হয়।

জীবতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান সুদত্ত কারবারী চাকমা জানান, পাহাড়ে আনারসের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আম, জাম, কলা, কাঁঠাল, জাম্বুরা, পেঁপে, পেয়ারা, বরই, পানিফল ইত্যাদি উত্পন্ন হয়। এসব ফলের বেশিরভাগ ক্রেতা থাকেন পর্যটকরা। তবে অনেক ব্যবসায়ী ট্রাক ভর্তি করে এসব মৌসুমী ফল কিনে শহরে নিয়ে যান। তবে পর্যটকরা প্রতিদিন এখানে ভ্রমণে এসে এসব মালামাল কিনেন বলে এখানকার অনেক পরিবার স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারছে বলেও চেয়ারম্যান জানান।