পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে শঙ্কা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান সংকটকে আরও গভীর ও উপসংহারহীন করে তুলবে।’ উল্লেখ্য, বুধবার প্রধানমন্ত্রী জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘যারা মানুষ পোড়াবে বা আঘাত করবে, তাদের বিরুদ্ধে যত কঠিন ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সেটা আপনারা নেবেন। কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। যা কিছু হোক, সেই দায়িত্ব্ব আমি নেব।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শঙ্কা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, এই বক্তব্যের পরিণতি কী তাহলে আরও অনেক লাশ খালে-বিলে-নদীতে ভেসে উঠবে? যৌথবাহিনী কর্তৃক চলবে গ্রামের পর গ্রাম খাব দাহন, বিরোধী দলের আরও অসংখ্য নেতা-কর্মীর হত্যার পর বলা হবে বন্দুকযুদ্ধের কাহিনি? তিনি বলেন, পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করা শুধু অমানবিকই নয়, যারা এগুলোর সঙ্গে যুক্ত তারা পাশবিক বিবেকের অমানুষ। কিন্তু এই জঘন্য অপকর্মের দায় চাপানো হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর। কারণ সরকারি শক্তির নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম। তাদের হুকুমেই গণমাধ্যমে ঢালাও প্রচার চালানো হচ্ছে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে।
নাশকতার জন্য সরকারকে দায়ী করে রিজভী প্রশ্ন রাখেন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজ কার্যালয়ে ‘অবুেদ্ধ’, দলের মহাসচিবসহ হাজার-হাজার নেতা-কর্মী কারাগারে, প্রায় লক্ষাধিক নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলা কাঁধে নিয়ে বাড়িছাড়া, এ রকম ভয়ঙ্কর আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠার মধ্যে নেতা-কর্মীরা জীবন বাঁচাবে না গাড়িতে আগুন অথবা পেট্রলবোমা ছুড়বে? রিজভী দাবি করেন, দেশের জনপদের পর জনপদে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব লোমহর্ষক ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে অথচ গণমাধ্যম নিশ্চুপ। যদিও দু-একটি পত্রিকা অনেক হুমকির মাঝেও কিছু কিছু ঘটনা প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, উত্পীড়নের নানা পন্থা অবলম্বন করে চলমান আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করে সফল হতে না পেরে এখন সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে টার্গেট করা হয়েছে। সরকারি প্রচ্ল আক্রমণ সত্ত্বেও নেতা-কর্মীরা জোরালো কণ্ঠের আওয়াজে মিছিল করে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে যাবে।
