স্পেনের সুফি দলটির নাম ‘জিকর’। নাম দেখেই তাদের শেকড় বোঝা যায়। আর দলটির সঙ্গীতের ধারা ফ্লেমেঙ্কো। সুফিসাধক লরা একমাত্র নারী শিল্পী যিনি এই সুফিধারাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। এই সুফিসাধকদের উত্পত্তি ভারতে। যারা পরে স্পেনে গিয়ে এই ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। স্পেনে দীর্ঘ নয়শ বছরের মুসলিম শাসন ছিল। সেই সময়েই স্পেনে সুফি সঙ্গীত ধারার সৃষ্টি। যারা ভারতীয় ধারাকে বহন করে চলেছেন। ঐতিহ্যবাহী সেই ধারার সঙ্গে আধুনিকতার সংমিশ্রণে মূলত সুফিধারা ও স্পেনের লোকজ সঙ্গীত পরিবেশন করে দলটি। তাদের পরিবেশনায় মূলত ছিল ফিউশনধর্মী গান। যা আমাদের দেশের শিল্পীদের আনন্দ দিয়েছে।
মানুষের মনে সুফি সঙ্গীতের প্রতি যে এত বিপুল আগ্রহ রয়েছে তা এই উত্সব আয়োজন না হলে কি বোঝা যেত? সুফিফেস্ট বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এই সঙ্গীত পিপাসাকে নতুন করে চিনিয়েছে। বৃহস্পতিবার বাতাসে শীতের তীব্রতা ছিল বেশি। কিন্তু সঙ্গীতের উষ্ণতায় গতকাল সেই শীত উড়িয়ে দিয়েছেন সুফি গানের সাধকরা। সেই সাথে সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময়তার মধ্য দিয়ে বন্ধুতার যে পথ সৃষ্টি হলো, নানা দেশের সুরের বৈচিত্র্যময়তার মধ্যে ঐক্যের স্পর্শ পেল দর্শকরা—সেই সম্পর্ক যেন আরো গভীর হয় সে কথাও বললেন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শিল্পীরা। দর্শক-শ্রোতার মনেও সেই আকুতি। যেন আগামী বছরগুলোতে সুফিফেস্ট আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হয় সে আহ্বান জানালেন সবাই।
‘মাস্ত ক্যালেন্ডার মাস্ত মাস্ত’ সব দর্শকদের অবাক করে দিয়ে ডেনমার্কের শিল্পীরা ধরলেন উপমহাদেশে জনপ্রিয় এই গান। দর্শকরাও উত্সাহে ফেটে পড়লেন। এভাবেই গতকাল শুরু হয় তৃতীয় দিনের উত্সব। আর বলতেই হয়, শেষ দিন ছিল ইউরোপের শিল্পীদের। সঙ্গীত পরিবেশন করলো ডেনমার্কের দল ‘সেরেনাস’। এই দলটির সব সদস্যই ছিলেন নারী। এটাও তাদের দলের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সুফিধারার সঙ্গীত এশিয়ায় যেভাবে জনপ্রিয় ইউরোপে সেই সঙ্গীতধারার অবস্থা কেমন সে সম্পর্কে ধারণা নেই বাংলাদেশের দর্শকদের। কিন্তু ডেনমার্ক ও স্পেনের শিল্পীরা তাদের গায়কী দিয়ে সুফিবাদে তাদের মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রাখলেন। আর দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ালেন।
তবে সুফিফেস্টের সর্বশেষ আকর্ষণ ছিল উপমহাদেশে বিখ্যাত কাওয়ালি গানের পুরোধা সঙ্গীত শিল্পী নুসরাত ফতেহ আলী খানের ভাইয়ের ছেলে ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খানের পরিবেশনা। বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে এর আগেও এসেছেন তিনি। এবারও গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন দর্শকদের। ইসলামের সুফি ধারার কাওয়ালি গানের জন্যই তাদের পরিবার পৃথিবী জুড়ে দর্শকদের হূদয় জয় করেছেন। তার চাচার পথ ধরেই তিনি কাওয়ালী গানকে অবলম্বন করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা।
গতকাল ছিল উত্সবের শেষ দিন। সমাপনী দিনের সঙ্গীত সন্ধ্যাটি শুরু হয় ডেনমার্কের গানের দল ‘সেরেনাস’র পরিবেশনা দিয়ে। সেরেনাসও ৫ জন নারী শিল্পীর গানের দল। বাঁশি, ভায়োলিন ও ম্যান্ডোলিনের কাজ দিয়ে তাদের গানগুলো কম্পোজ করা। মূলত একটি ইন্সট্রুমেন্টাল গানের দল। সুরে পাশ্চাত্য ও নিজস্ব লোকজ সংগীতের মিশ্রণ স্পষ্ট। পরিবেশনার শুরুতেই তারা পর পর দুটি ইন্সট্রুমেন্টাল পরিবেশন করে। এরপর বেশ কয়েকটি ফোক গান। গানগুলোর দৈর্ঘ্যও বেশ কম সময়ের। তাদের পরিবেশিত গানের মধ্যে রয়েছে ‘ইস্পেতের সুকে’, ‘সিংলাও সাঙ্গিলা ইউ লাও’। বেশ কয়েকটি ভাষায় গান পরিবেশন করে তারা। এর মধ্যে ফ্রেঞ্চ ও হিন্দী ভাষার মিশেলে একটি গান ও ইটালিয়ান ভাষায় একটি জিপসি গানও পরিবেশন করে সেরেনাস। এরপরে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের শিল্পী লাবিক কামাল গৌরব ও সবশেষে ছিলেন পাকিস্তানের শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান।
প্রথমবারের মত আয়োজিত এ উত্সবে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের রব ফকির, শফি মন্ডল, অর্ণব, লাবিক কামাল গৌরবের পাশাপাশি ভারতের জাবেদ আলী, মনোয়ার মাসুম ও পাকিস্তানের রাহাত ফতেহ আলী খানের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের। অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলো হলো—মিসর, ব্রাজিল, তিউনিসিয়া, ডেনমার্ক ও স্পেনের সুফিসাধক ও দল। একক গানের পাশাপাশি রয়েছে ১২টি দলের পরিবেশনা। রাজধানীর বিজয় সরণির সামরিক জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ উত্সবের আয়োজক ছিল ব্লুজ কমিউনিকেশন্স।
আধ্যাত্মিক সুরের আবেশে সুফি ফেস্টের সমাপ্তি
স্পেনের সুফি দলটির নাম ‘জিকর’। নাম দেখেই তাদের শেকড় বোঝা যায়। আর দলটির সঙ্গীতের ধারা ফ্লেমেঙ্কো। সুফিসাধক লরা একমাত্র নারী শিল্পী যিনি এই সুফিধারাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। এই সুফিসাধকদের উত্পত্তি ভারতে। যারা পরে স্পেনে গিয়ে এই ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। স্পেনে দীর্ঘ নয়শ বছরের মুসলিম শাসন ছিল। সেই সময়েই স্পেনে সুফি সঙ্গীত ধারার সৃষ্টি। যারা ভারতীয় ধারাকে বহন করে চলেছেন। ঐতিহ্যবাহী সেই ধারার সঙ্গে আধুনিকতার সংমিশ্রণে মূলত সুফিধারা ও স্পেনের লোকজ সঙ্গীত পরিবেশন করে দলটি। তাদের পরিবেশনায় মূলত ছিল ফিউশনধর্মী গান। যা আমাদের দেশের শিল্পীদের আনন্দ দিয়েছে।
মানুষের মনে সুফি সঙ্গীতের প্রতি যে এত বিপুল আগ্রহ রয়েছে তা এই উত্সব আয়োজন না হলে কি বোঝা যেত? সুফিফেস্ট বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এই সঙ্গীত পিপাসাকে নতুন করে চিনিয়েছে। বৃহস্পতিবার বাতাসে শীতের তীব্রতা ছিল বেশি। কিন্তু সঙ্গীতের উষ্ণতায় গতকাল সেই শীত উড়িয়ে দিয়েছেন সুফি গানের সাধকরা। সেই সাথে সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময়তার মধ্য দিয়ে বন্ধুতার যে পথ সৃষ্টি হলো, নানা দেশের সুরের বৈচিত্র্যময়তার মধ্যে ঐক্যের স্পর্শ পেল দর্শকরা—সেই সম্পর্ক যেন আরো গভীর হয় সে কথাও বললেন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শিল্পীরা। দর্শক-শ্রোতার মনেও সেই আকুতি। যেন আগামী বছরগুলোতে সুফিফেস্ট আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হয় সে আহ্বান জানালেন সবাই।
‘মাস্ত ক্যালেন্ডার মাস্ত মাস্ত’ সব দর্শকদের অবাক করে দিয়ে ডেনমার্কের শিল্পীরা ধরলেন উপমহাদেশে জনপ্রিয় এই গান। দর্শকরাও উত্সাহে ফেটে পড়লেন। এভাবেই গতকাল শুরু হয় তৃতীয় দিনের উত্সব। আর বলতেই হয়, শেষ দিন ছিল ইউরোপের শিল্পীদের। সঙ্গীত পরিবেশন করলো ডেনমার্কের দল ‘সেরেনাস’। এই দলটির সব সদস্যই ছিলেন নারী। এটাও তাদের দলের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সুফিধারার সঙ্গীত এশিয়ায় যেভাবে জনপ্রিয় ইউরোপে সেই সঙ্গীতধারার অবস্থা কেমন সে সম্পর্কে ধারণা নেই বাংলাদেশের দর্শকদের। কিন্তু ডেনমার্ক ও স্পেনের শিল্পীরা তাদের গায়কী দিয়ে সুফিবাদে তাদের মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রাখলেন। আর দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ালেন।
তবে সুফিফেস্টের সর্বশেষ আকর্ষণ ছিল উপমহাদেশে বিখ্যাত কাওয়ালি গানের পুরোধা সঙ্গীত শিল্পী নুসরাত ফতেহ আলী খানের ভাইয়ের ছেলে ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খানের পরিবেশনা। বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে এর আগেও এসেছেন তিনি। এবারও গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন দর্শকদের। ইসলামের সুফি ধারার কাওয়ালি গানের জন্যই তাদের পরিবার পৃথিবী জুড়ে দর্শকদের হূদয় জয় করেছেন। তার চাচার পথ ধরেই তিনি কাওয়ালী গানকে অবলম্বন করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা।
গতকাল ছিল উত্সবের শেষ দিন। সমাপনী দিনের সঙ্গীত সন্ধ্যাটি শুরু হয় ডেনমার্কের গানের দল ‘সেরেনাস’র পরিবেশনা দিয়ে। সেরেনাসও ৫ জন নারী শিল্পীর গানের দল। বাঁশি, ভায়োলিন ও ম্যান্ডোলিনের কাজ দিয়ে তাদের গানগুলো কম্পোজ করা। মূলত একটি ইন্সট্রুমেন্টাল গানের দল। সুরে পাশ্চাত্য ও নিজস্ব লোকজ সংগীতের মিশ্রণ স্পষ্ট। পরিবেশনার শুরুতেই তারা পর পর দুটি ইন্সট্রুমেন্টাল পরিবেশন করে। এরপর বেশ কয়েকটি ফোক গান। গানগুলোর দৈর্ঘ্যও বেশ কম সময়ের। তাদের পরিবেশিত গানের মধ্যে রয়েছে ‘ইস্পেতের সুকে’, ‘সিংলাও সাঙ্গিলা ইউ লাও’। বেশ কয়েকটি ভাষায় গান পরিবেশন করে তারা। এর মধ্যে ফ্রেঞ্চ ও হিন্দী ভাষার মিশেলে একটি গান ও ইটালিয়ান ভাষায় একটি জিপসি গানও পরিবেশন করে সেরেনাস। এরপরে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের শিল্পী লাবিক কামাল গৌরব ও সবশেষে ছিলেন পাকিস্তানের শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান।
প্রথমবারের মত আয়োজিত এ উত্সবে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের রব ফকির, শফি মন্ডল, অর্ণব, লাবিক কামাল গৌরবের পাশাপাশি ভারতের জাবেদ আলী, মনোয়ার মাসুম ও পাকিস্তানের রাহাত ফতেহ আলী খানের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের। অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলো হলো—মিসর, ব্রাজিল, তিউনিসিয়া, ডেনমার্ক ও স্পেনের সুফিসাধক ও দল। একক গানের পাশাপাশি রয়েছে ১২টি দলের পরিবেশনা। রাজধানীর বিজয় সরণির সামরিক জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ উত্সবের আয়োজক ছিল ব্লুজ কমিউনিকেশন্স।