এক মাস ধরে খোঁজ নেই রাজশাহীর নওহাটার পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুর সরকারের। মেয়রের হদিস না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবার ও পৌরবাসী। থমকে দাঁড়িয়েছে পৌরসভার কার্যক্রম।
মেয়রের সন্ধান দাবিতে বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন করেছে। এতে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেয়। এদিকে নিখোঁজ মেয়রকে উদ্ধারে পবা থানা পুলিশ শুক্রবার পর্যন্ত দুই নারীকে আটক করেছে। এরা হলেন, কথিত ডা. সালমা জান্নাতুন মীম ও তার বোন (নাম প্রকাশ করা হয়নি)।
জানা যায়, গত বছর ৩১ ডিসেম্বর মেয়র গফুর ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। দুই জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলে যোগাযোগ ছিল। মাঝে তার মোবাইল থেকে বিভিন্ন ম্যাসেজ ও দু’টি মোবাইলে ২৫ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার টাকার বিকাশ চাওয়া হয়। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। ১৯ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষে পবা থানায় অভিযোগ করা হয়। গত ২৭ জানুয়ারি নওহাটা পৌরসভায় ঢাকা থেকে কুরিয়ারে প্যানেল মেয়র শফিকুলকে মেয়রের দায়িত্ব অর্পণের রহস্যজনক চিঠি আসে।
এদিকে থানায় অভিযোগের পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশ তার পারিবারিক, ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক জটিলতা খতিয়ে দেখছে। প্রসঙ্গত, মেয়র গফুর তিনটি বিয়ে করেছেন। তার দুই স্ত্রী বর্তমান রয়েছেন।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, মেয়র গফুর নিখোঁজের বিষয়টি ২০দিন পর থানায় জানিয়েছে তার পরিবার। আমরা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জেনেছি নিখোঁজ মেয়র ৪-৬ জানুয়ারি রাজশাহীতে, ৬-৯ জানুয়ারি নওগাঁয় এবং পরে ঢাকায় অবস্থান করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন নওগাঁর কথিত ডা. সালমা জান্নাতুন মীম। মেয়র অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাকে আটক করে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মীম অন্তঃসত্ত্বা দাবি করে রিমান্ডের বিরোধিতা করা হলে আদালত দুই দফা শুনানি পিছিয়ে এক ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। গতকাল শুক্রবার মীমের এক বোনকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
