সরগরম কুয়াকাটা এখন পর্যটকশূন্য

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৪৮

২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প। সহিংসতার শঙ্কায় ভ্রমণের আগ্রহ হারাচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। ফলে এ ভরা মৌসুমে অনেকটাই পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটা। পর্যটকরা হোটেল-মোটেলের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন নেয়া হচ্ছে কড়া নিরাপত্তা। চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। লাভ তো দূরের কথা আনুষঙ্গিক খরচ ও স্টাফদের বেতন দেয়া নিয়ে তারা চিন্তিত।

প্রতি বছর পর্যটন মৌসুম আসলেই দেশে দেখা দেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বর্তমানে টানা অবরোধের কারণে পুরো সৈকত জুড়ে এখন ফাঁকা। নেই পর্যটকদের আগের মত কোলাহল। কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো একবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। কুয়াকাটায় ঝিনুক ও কাপড় ব্যবসায়ী উসো তাং বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। এভাবে চলতে থাকলে এ শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। এছাড়া বেকার হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে শ’শ মানুষ। কুয়াকাটা-মিশ্রীপাড়ায় হাতে তৈরি কাপড় বিক্রেতা ওয়েমাচিং বলেন, অবরোধের কারণে আমাদের বেচাকেনা একেবারেই কমে গেছে। আগের মতো পর্যটকরা মিশ্রীপাড়ায় কাপড়-ব্যাগ চাদর-জামা কিনতে আসেন না।
স্থানীয় একাধিক পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মূলত পর্যটন শিল্পের ভরা মৌসুম বলে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিড় থাকায় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটান। কিন্তু  এ বছর  লাগাতার অবরোধের প্রভাবে চলতি মৌসুমে পর্যটন শিল্পে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ফলে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বেকার জীবনযাপন করছেন সংশ্লিষ্ট এ শিল্পের শ’শ শ্রমিক। এভাবে চলতে থাকলে এ শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে এমন আতঙ্কে পর্যটন ব্যবসায়ীরা দিন কাটাচ্ছেন।

গত বছরগুলোতে এমন সময় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ব্যবসা ছিল জমজমাট। কোন হোটেলে রুম খালি থাকত না। প্রায় ১০/১৫ দিন আগে রুমের অগ্রিম বুকিং দিতে হত। এ বছর আগের মত অবস্থা নেই। হোটেল ব্যবসায়ীরা বসে বসে ঝিমাচ্ছেন। কুয়াকাটা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ তুষার জানান, লাগাতার অবরোধের ফলে সহিংসতার শঙ্কায় দেশি-বিদেশি পর্যটকরা পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরিফ বলেন, গত মৌসুমে পর্যটন ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা গেছে। এ বছরও একই অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে আমরা নিজেরা কীভাবে চলবো কিংবা কর্মচারীদেরও কীভাবে চালাবো বলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।