পাকিস্তানের একটি শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৫৫ জন।
নিহতদের মধ্যে ৪৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশটির সিন্ধু প্রদেশের শিকারপুর জেলার একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের পর এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর ডন ও রয়টার্সের।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বোমা হামলাকারী গ্রুপ ‘জুনদুল্লাহ’ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। জুনদুল্লাহ’র মুখপাত্র ফাহাদ মারওয়াত বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিলো শিয়াদের মসজিদ। শিয়া মুসলিমরা আমাদের শত্রু। গত বছর টিটিপি সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক ইসলামিক স্টেট আইএসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাদের নাম উল্লেখ করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাকীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মজলিস উয়াদাতুল মুসলিমিনের (এমডব্লিউএম) পক্ষ থেকে সিন্ধু প্রদেশে শান্তিপূর্ণ অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা মোহাম্মদ আমিন শাহেদী এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এদিকে সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সাঈদ কাইম আলী শাহ নিহতদের স্মরণে এক দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ইমরান খান এবং মুত্তাহিদা কওমী মুভমেন্টের প্রধান আলতাফ হুসেইন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিত্সার জন্য দ্রুত করাচিতে পাঠানোর দাবি জানায় দ্য জাফরিয়া ডিজাস্টার সেল (জেডিসি)। শিকারপুর জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. মুনির জখিও বলেন, মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। অনেকের অবস্থা গুরুতর। সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাম মেহেতাব দেহার এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সিন্ধু প্রদেশের তথ্য মন্ত্রী সারজিল ইনাম মেনন বলেন, শিকারপুরের সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
দেশটির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর আরো বোমা হামলা হতে পারে আশঙ্কায় একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল ঘটনাস্থলে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স একযোগে কাজ শুরু করে। এছাড়া অন্য কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বোমা বিস্ফোরণের ফলে মসজিদটির ছাদ ধসে পড়লে অনেকেই ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে। আহতদের সিন্ধু প্রদেশের শিকারপুর এবং লারকানা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গির বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বোমা বিস্ফোরণের সময় মনে হয়েছে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। পায়ের নিচ থেকে মনে হয়ে মাটি সরে যাবে। দেড় কিলোমিটার দূরের একটি মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন জাহাঙ্গির। জাতীয় শিয়া সম্প্রদায়ের এক কর্মকর্তা রাহাত কাজমি বলেন, মসজিদটিতে কমপক্ষে চার শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করছিলেন।
