জাতীয় কবিতা উত্সব শুরু: জাগো সম্ভাবনায়, জাগো কবিতায়

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৯:৪৪
 
 
 
‘জাগো সম্ভাবনায়, জাগো কবিতায়’ স্লোগান ধারণ করে রবিবার দেশি-বিদেশি কবিদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ২৯তম জাতীয় কবিতা উত্সব-২০১৫। উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন কবি সৈয়দ শামসুল হক। সকালে জাতীয় সংগীত, একুশের গান, উত্সব সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা, উত্সব পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিতা উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের কবিতা উত্সব উত্সর্গ করা হয়েছে জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে।
রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার-সংলগ্ন হাকিম চত্বরে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত এ উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শুরুতে উত্সবে আসা কবিরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শিল্পী কামরুল হাসানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বায়ান্নের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্সবপ্রাঙ্গণে এসে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তেলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।  
উদ্বোধনী বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, ‘দেশকে ধ্বংসের একটা বিপর্যয় চলছে। এ থেকে আমরা কী করে মুক্তি পেতে পারি, তা ভাবার এখন সময় এসেছে। মানুষকে প্রতিরোধ রচনা করতে হবে। রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা, যে অগ্নিকাণ্ড আমরা দেখছি তা কেবল দেশকে হত্যা করার জন্য। এ দেশের মাটিতে ৩০ লাখ  শহীদের রক্ত মিশে আছে, চার নেতার রক্ত আর বঙ্গবন্ধুর রক্ত মিশে আছে। সেই দেশকে হত্যা করার একটা ষড়যন্ত্র চলছে।’
উত্সবে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পরিষদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘আজ স্বদেশে-স্ববিশ্বে অমিত সম্পদ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য যুদ্ধ, বৈরিতা, হানাহানি ও ধ্বংসের যে অবর্ণনীয় নিষ্ঠুুরতা চলছে, তাকে নির্মূল করতে না পারলে স্তব্ধ হবে মানবতা, মানব-সভ্যতা ও মানব-সম্ভাবনা। তাকে ঠেকাতে হলে প্রতিটি মানবচিত্তে জাগাতে হবে কবিতার সম্ভাবনা।’  
যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক সুজাত বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বেশ কিছু কাল ধরে অসুস্থ। অশুভ রাজনীতির বিষাক্ত ছোঁবলে আক্রান্ত। ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে একটি জাতির প্রাণ। দেশের কবিরা চিরকালই প্রগতির পক্ষে—বিশ্বের সকল ভাষার সংগ্রামী কবি ও কবিতার ধারার সঙ্গে বাঙালি কবির লড়াই একই মন্ত্রে গাঁথা।’ 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, ‘সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছড়াকার আসলাম সানী, আহ্বায়ক কবি মুহাম্মদ সামাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক সুজাত প্রমুখ।
উত্সবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি কাজী রোজী।
উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠ এবং আলোচনা পর্ব। এ পর্বের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে উত্সবে কবিতা পাঠ করেন ভারতীয় কবি আশিস সান্যাল, মৃনাল বসু চৌধুরী, বীথি চট্টপাধ্যায়, অমৃত মাইতি, সুবোধ সরকার, আলোচনা করেন সমালোচক শংকরলাল ভট্টাচার্য, গান শোনান ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য। এ ছাড়া বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইডেন থেকে কবিরাও তাদের কবিতা পড়ে শোনান। এভাবে ছয়টি পর্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠের প্রথম দিন।
দ্বিতীয় দিন আজ ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় থাকবে বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে ‘নতুন কবিতা: যুগান্তের আহ্বান’ শীর্ষক সেমিনার। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে ‘বাংলাদেশের কবিতা: ভাবরূপের পালাবদল’ শীর্ষক সেমিনার, এ পর্বের সভাপতিত্ব করবেন শামসুজ্জামান খান, শুরু হবে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এরপর থাকবে কবিতা পাঠ, পঞ্চম পর্ব, ষষ্ঠ পর্ব, সপ্তম পর্ব, পুরস্কার বিতরণ বিকাল ৫টায়, এরপর কবিতা পাঠ অষ্টম পর্ব, নবম পর্ব। এভাবে রাত ৮টায় কবিতার গানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে জাতীয় কবিতা উত্সব-২০১৫।