প্রবাসী অধ্যুসিত সিলেটের বিশ্বনাথে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন নানা বিড়ম্ভনার শিকার হচ্ছেন।
লন্ডন প্রবাসী বিশ্বনাথের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এবং জনপ্রতিনিধিরা ‘ইত্তেফাক’কে জানিয়েছেন দীর্ঘদিন থেকে বিশ্বনাথ উপজেলার দক্ষিণ এলাকার আইডি নাম্বার-৬৯১২০৪০৫২ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্কুলগামি ছাত্র-ছাত্রি, বয়বৃদ্ধ রোগী, প্রবাসী অতিথিসহ সকল স্তরের মানুষ নানামুখি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। ‘৮৮ সালের দিকে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে পাকা করণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে সড়কে খানা-খন্দক সৃষ্টি হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রি, বয়বৃদ্ধ রোগী সহ সর্বশ্রেণীর মানুষের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁদা-বৃষ্টিতে এই এলাকায় পুলিশ টহল দিতে না পারায় প্রবাসীরা সবসময়েই একটা আতঙ্কে থাকে। তুলনামূলকভাবে বর্তমানে অপরাধ প্রবণতাও বেশি লক্ষ্য করা যায়। অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সড়কটির অভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এরমধ্যে আমতলি গ্রামে কমপক্ষে ১০-১২ হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। মূলত তারাই বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী তালুকদার শামস উদ্দিন সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘৩০-৪০ হাজার মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি চারটি হাওর এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন হবে। এই বিশাল এলাকায় প্রচুর কৃষি উতপাদন হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রকৃতপক্ষে তার ন্যায্য মূল্য এলাকাবাসী পায় না। সড়কটির সংস্কার এবং ৪টি স্লুইস গেট নির্মাণ হলে কয়েক শ’ হেক্টর জমিতে দোফসলি ধান চাষ, মাছের উতপাদন ও কৃষি আবাদের আওতায় আসবে। এই সড়কটির আশপাশে শতবছরের বেশ কয়েকটি বাজারও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে যোযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই বিশাল এলাকার প্রবাসীরা যখন বাড়িতে যায় তখন চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন থাকে। ফলে অনেক প্রবাসী গ্রামের বাড়ি যেতে সাহস করেন না। বিভিন্ন সময়ে তারা ডাকাত-সন্ত্রাসী হামলার শিকারও হয়েছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্বাস আলি বলেন, এই সড়কটি হচ্ছে তিনটি উপজেলার সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘদিন থেকেই বিশাল জনগোষ্ঠীর এটি দাবি। তা উপেক্ষিত থাকায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এটি সংস্কার হলে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে।
স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল হক জানান, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় আন্তরিক। কাঁচা সড়কটি সংস্কার করা হলে টহল জোরদারে সুবিধা হবে।
