বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরে সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আশ্রয়ণ, গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম নামের আবাসন প্রকল্পগুলো। যা বর্তমানে মানুষের কোনো কাজে আসছে না। অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রকল্পের ঘর দুস্থদের পরিবর্তে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিত্তশালীদের। এছাড়া কয়েকটি প্রকল্প নদীগর্ভে বিলীনও হয়েছে।
এরই মধ্যে উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের শনপচা মোল্লাপাড়ায় নতুন করে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ থেকে ২৬৭.৫০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ হয়েছে। প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে ১০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ড্রেজার মালিকদের চুক্তি দিয়ে বালু ভরাটের কাজ করে ভুয়া মাস্টাররোল দাখিল করার অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলায় বিভিন্ন সময় নির্মিত আশ্রয়ণ, আবাসন, আদর্শগ্রাম ও গুচ্ছগুলোতে স্বল্পসংখ্যক লোক বসবাস করে। এতে ওই প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগ ব্যারাক অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৯৮ সালে শনপচা ওই চরে বাংলাদেশের বৃহত্তর আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। সেটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিম শনপচা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের ‘উত্তর শনপচা গুচ্ছগ্রাম’।
সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ৪০টি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য মাটি ভরাটসহ ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৫টি পরিবার বসবাস করছে। অন্য সুবিধাভোগী পরিবারগুলো সেখানে বসবাস করে না। ফলে অন্য ঘরগুলো পরিত্যক্ত পড়ে আছে।
উত্তর শনপচা গুচ্ছগ্রাম পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মোকছেদ মণ্ডল বলেন, এই প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভিক্ষু মণ্ডলও প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। তিনি আর এখানে থাকেন না। তার নিজস্ব আরেকটি বাড়ি আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, সুবিধাভোগীদের সিলেকশন দেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।
প্রকল্পের ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কোনো বিধান নেই।
কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী মণ্ডল বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালিকা তারা সঠিকভাবেই করেন। অনেক পরিবারে লোকসংখ্যা বেশি থাকে। তাদের মধ্যে একজনকে ঘর দেওয়া হয়। ঘর নেওয়ার পর অনেক সময় কাজের জন্য সমতলে আসে। যে কারণে কখনও কিছু ঘর খালি থাকে। লোকজনের মধ্যে ঘরের চাহিদা রয়েছে বলেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, বসবাসের অযোগ্য ব্যারাকগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
