রাজধানীর রূপনগর বেড়িবাঁধ থেকে উদ্ধারকৃত লাশটি ছাত্রদল কর্মী আরিফুল ইসলামের। তিনি চট্টগ্রামের বেসরকারি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ইশানপুর গ্রামে তার বাড়ি। আরিফুল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে তার পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে।
নিহতের মামা তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সদরঘাটে যান। আরিফের সঙ্গে তার এক বন্ধুও ছিলেন। তারা এমভি কর্ণফুলী-৪ লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চটি ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ৪/৫ জন ব্যক্তি আরিফকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আরিফ নিখোঁজ ছিলো। আরিফ ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের একটি মেসে থাকতো। নিহতের মামা আরো দাবি করেছেন, আরিফ ছাত্রদল করতো বলেই গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে গুলি করে হত্যা করেছে।
গত ৩০ জানুয়ারি সকালে রূপনগর থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পিঠে ও ঘাড়ে ৭ টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পরে লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। সোমবার সকালে নিহতের মামা তৌহিদুল ইসলাম মর্গে গিয়ে লাশটি আরিফুল ইসলামের বলে সনাক্ত করেন।
আরিফুলের বাবা মোস্তফা কামাল চরফ্যাশনের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে বিএনপির কর্মী না হলেও সমর্থক ছিলো। তবে তার ছেলেকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন।
লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রূপনগর থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই ফিরোজ আলম জানান, সকালে নিহতের আত্মীয় পরিচয়ে লোকজন থানায় এসেছিলেন। নিহতের নিকট আত্মীয়র কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হবে।
রূপনগর থানার ওসি শামীম সিকদার জানান, হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
