বগুড়ায় পানবোঝাই একটি ট্রাকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেলের আগুনে পুড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরো একজন। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের তিনমাথা রেলগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- পান ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম (৩৮) এবং ট্রাকচালক পলাশ (৪০)। শহিদুল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বনতেঘড়ি গ্রামের আফজাল সরকারের ছেলে। পলাশ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়ার বাসিন্দা।
এর আগে সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল' নিহত ব্যক্তি ট্রাকচালকের সহকারী (হেলপার) ইমরান। তবে নিহত ব্যবসায়ীর ছোটভাই ফারুক সরকার লাশ সনাক্ত করে দাবি করেন যে, এটি তার বড়ভাই পান ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের।
অগ্নিদগ্ধ পলাশ ও ইমরানকে ঢাকায় নেয়ার পথে পলাশ মারা যান। দগ্ধ ট্রাক চালকের সহকারী ইমরানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে ঝিনাইদহ থেকে পান বোঝাই ট্রাকটি দিনাজপুর যাবার পথে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের তিনমাথা রেলগেট শহরতলীর তেলিপুকুর এলাকায় পৌঁছলে ট্রাকটি লক্ষ্য করে কয়েকটি ককেটল ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এসময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দিলে ককটেলের বিস্ফোরণে ও তার ছিরে তাতে আগুন ধরে যায়। এ সময় পাশে থাকা একটি বাসও ক্ষতিগ্রস্থ হয় । দগ্ধ হন চালক পলাশ, সহকারী ইমরান ও ব্যবসায়ী শহিদুল । শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা শহিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকায় নেয়ার পথে পলাশ মারা যান।
নিহত শহিদুলের ছোট ভাই ফারুক সরকার জানান, তার ভাই পান কেনার জন্য ঝিনাইদহ গিয়েছিলেন। ভোরে ঝিনাইদহ থেকে মোবাইল ফোনে খবর পান ঐ ট্রাকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে তার ভাইয়ের লাশ সনাক্ত করেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গাজীউর রহমান জানান, সকালে প্রাথমিকভাবে তথ্য বিভ্রাটের কারণে নিহত ব্যবসায়ী শহিদুলকে ট্রাক চালকের সহকারী ইমরান হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। পরে নিহতের ছোটভাই লাশ সনাক্ত করেছেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (টিএসআই) শাহ আলম জানান, এ ঘটনার পরপরই যৌথ বাহিনী শহরের জামিলনগরে অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
